শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

অন্ধকারে সিডিএ’র চেয়ার!

| প্রকাশিতঃ ২৪ এপ্রিল ২০২২ | ৭:৩৬ অপরাহ্ন


জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত : দুই মেয়াদে ৩ বছর ধরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এম. জহিরুল আলম দোভাষ। ২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল দুই বছরের জন্য সিডিএ চেয়ারম্যানের হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ২০২১ সালের ২২ এপ্রিল টানা দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসেন তিনি।

যদিও এই ৩ বছর সিডিএ’র জন্য তেমন কিছুই করতে পারেননি তিনি। চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত এ কর্তা নতুন কোনো প্রকল্প তো নিতেই পারেননি উল্টো পুরনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই নাকানিচোবানি খাচ্ছেন। অন্যান্য সেবা সংস্থার সাথে দ্বন্দ্ব, জনগণের স্বার্থ পরিপন্থি নানা সিদ্ধান্ত নেওয়াসহ বিস্তর অভিযোগ সিডিএ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

চেয়ারম্যান হিসেবে জহিরুল আলম দোভাষ কার্যত সফল না হলেও লাখ লাখ টাকার চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সিডিএ’র এ কর্তার জন্য অভিনন্দন কিনতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষের পক্ষ দেশবাসীকে ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকেও লাখ লাখ টাকার বিজ্ঞাপন দেয় সিডিএ।

বলা বাহুল্য, সিডিএর কোষাগারের অর্থ খরচ করে এসব বিজ্ঞাপনের অনুমোদন দিয়েছেন খোদ সিডিএ চেয়ারম্যানই। যদিও আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে বিভিন্ন সময় নগরের বেশকিছু প্রকল্পের দায়িত্বভার অন্য সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছে তুলে দিতে হয়েছিল সিডিএ-কে। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারায় সিডিএ’র প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল মাসের পর মাস।

কয়েক মাস আগে এ বিষয়ে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস একুশে পত্রিকাকে বলেছিলেন, ‘আসলে বিজ্ঞাপন বরাদ্দের বিষয়টা সিডিএ সচিব দেখেন। এব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পাওয়া নিয়ে বিজ্ঞাপনগুলো যখন পত্রিকায় দেওয়া হয়েছে তখন আমি ঢাকায় ছিলাম। সেসময় শুনেছি ২টি জাতীয় পত্রিকা এবং চট্টগ্রামের ৪ টি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। পরে অনলাইনে বিজ্ঞাপনগুলো দেখেছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিডিএ থেকে যে কোনও বিজ্ঞাপন দিতে গেলে চেয়ারম্যানের অনুমোদন লাগে। এখন কেন বিজ্ঞাপনগুলো দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে চেয়ারম্যান মহোদয় ভালো বলতে পারবেন। আপনি আমাদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বললে ভালো হয়।’

প্রধান প্রকৌশলীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সরকারি টাকায় বিজ্ঞাপনগুলো দেওয়ার কাজ করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সচিব মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা। এ বিষয়ে জানতে সিডিএ সচিবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মুখ খলতে রাজি হননি। একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেছিলেন, ‘আপনার কথা বলার দরকার হলে সিডিএ চেয়ারম্যানের সাথে বলুন, আমি এখানকার মুখপাত্র নই। আর এ বিষয়ে কোনও মিডিয়ার সাথে আমি কথা বলবো না–বলেই ফোন কেটে দেন এ কর্মকর্তা।

এদিকে বর্তমানে যেসব প্রকল্পে সিডিএ কাজ করছে তার সবগুলোই নেওয়া হয়েছিল সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের সময়ে। ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে ছয় মেয়াদে দশ বছর দায়িত্ব পালন করার সময় চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ কাম আউটার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্প, বাকলিয়া এক্সেস রোড নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে সিডিএ।

এসব প্রকল্পও এখন এগুচ্ছে বেশ ধীরগতিতে। ফলশ্রুতিতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আগের এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন চলছে ঢিমেতালে।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প: ২০১৭ সালের আগস্টে পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। ২০১৮ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া প্রকল্পটির বড় বাধা ভূমি অধিগ্রহণ। অনুমোদনের সময় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ ছিল দেড়গুণ। আইন সংশোধন করে তা তিন গুণ নির্ধারণ করা হয়।

প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ৬ হাজার ৫১৬ কাঠা ভূমির মধ্যে মাত্র ৩০০ কাঠা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান প্রকল্পটি এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। গত এক বছরে নালায় পড়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতো দুর্ঘটনার পরও এর দায় নিতে নারাজ সিডিএ। নিজেদের দোষ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওপর চাপিয়ে দায় সেরেছে সিডিএ।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতার করণে মেয়াদ ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হলেও এই মেয়াদ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা নগর পরিকল্পনাবিদদের। এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করেছে সিডিএ।

আউটার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্প: ২০১৩ সালে একনেক প্রকল্পটির অনুমোদন পায়। ২০১৬ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শুরুতে এ প্রকল্পের ব্যয় ৮৬৫ কোটি ২৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা ধরা হলেও দুই বার সংশোধনের পর বর্তমানে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪২৬ কোটি ১৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। প্রকল্পটির কাজ ২০১৯ সালে পুরো সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও দুটি ফিডার সড়কের কাজ এখনো বাকি। তবে কাজ শেষ না হলেও ২০২১ সাল থেকে এই সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকে সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজ নিয়েও আছে অনেক অভিযোগ। দীর্ঘ সড়কে দুই পাশে চলাচলকারী মানুষের জন্য রাস্তা পারাপারের কোনও ব্যবস্থা রাখা হয়নি। পথচারীদের সুরক্ষায় নেওয়া হয়নি কোনও পদক্ষেপ। ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটিতে নেই স্পিড ব্রেকার, স্ট্রিটলাইট। ফলে যান চলাচল শুরু হওয়ার এক বছরে দুর্ঘটনায় ঝরেছে অর্ধশতাধিক প্রাণ।

বাকলিয়া এক্সেস রোড: বাকলিয়া এক্সেস রোডটি ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানভুক্ত একটি পরিকল্পনা। ডিপিপি অনুযায়ী দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬০ ফুট চওড়া বাকলিয়া এক্সেস রোড নির্মাণে প্রকল্প মেয়াদ ছিল জুলাই ২০১৬ থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত। ২০৫ কোটি ৪৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় একনেকে অনুমোদন পেলেও এখনও সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করা যায়নি।

সিডিএ’র অনুমোদন দেওয়া একটি ১০ তলা ভবনের কারণে পাঁচ বছর আটকে থাকা বাকলিয়া এক্সেস রোড প্রকল্পটির জট এখনও খুলেনি। ভবনকে অক্ষত রেখে ভবনের মাঝখান দিয়ে বিকল্প রুটে রোডটি নির্মাণে নতুন এলাইনমেন্ট নির্ধারণ করে গত জুনে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি সিডিএ। ফলে মাত্র ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের কারণে ১ হাজার ৬০০ মিটার দীর্ঘ রোডের সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী।

এদিকে, সিডিএ’র বিল্ডিং কোড না মেনে নির্মিত ও নির্মাণাধীন ভবন নিয়েও তেমন কোনও কার্যকর ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি সিডিএ কিংবা সংস্থাটির চেয়ারম্যানকে। নগরজুড়ে গত ১ বছরে ভবন হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকটি। গত বছরের ১১ এপ্রিল গোয়ালপাড়ায় একটি ৫ তলা ভবন, একই বছরের ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় সাবানঘাটা এলাকায় একটি ৪ তলা ভবন হেলে পড়া ও গেল বছরের ২২ ডিসেম্বর রাতে সদরঘাট ফকিরপাড়া এলাকায় একটি মন্দিরসহ ৩টি বাড়ি হেলে পড়ার পর প্রশ্ন উঠে সিডিএ’র কার্যক্রম নিয়ে।

তবে, গত ৩ বছরে সাফল্য বলতে তার ঝুলিতে আছে চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ড্রোন উড়িয়ে নগরের জন্য নতুন মাস্টার প্ল্যান উদ্বোধন। সরকারের রূপকল্প ২০৪১ এর সঙ্গে মিল রেখে ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার মাস্টার প্ল্যান (২০২০-২০৪১) প্রণয়ন’ র্শীষক প্রকল্পটি সিডিএ’র পক্ষ থেকে উদ্বোধন করেন সিডিএ চেয়ারম্যান এম. জহরিুল আলম দোভাষ।

যদিও এর আগে ১৯৯৫ সালে মাস্টার প্ল্যান ও ২০০৮ সালে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান তৈরি করেছিল সংস্থাটি। তবে কোনও মাস্টার প্ল্যানই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি সংস্থাটি। নানা সংকট ও জটিলতায় শেষ না করেই থেমে যেতে হয়েছিল সিডিএকে। ১৫ বছর আগের পুরোনো ও অসমাপ্ত এই মাস্টার প্ল্যানের প্রকল্পটি নতুন নামে বাস্তবায়ন করতে চান সিডিএ চেয়ারম্যান।

উল্লেখিত এসব প্রকল্পে সিডিএ’র কার্যক্রম নিয়েই নানা আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে চেয়ারম্যান দোভাষকে। কোনও কিছুতেই যেন টনক নড়ে না তার। সংস্থা প্রধান হলেও তিনি অনেকটা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।

প্রশ্ন উঠে, সিডিএ’র মত এতোবড় দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা প্রধানের চেয়ার সামলাতে গিয়ে কি তাহলে খেই হারিয়ে ফেলছেন দোভাষ? এতো সময় সুযোগ থাকার পরও কেন নিজের কাজ দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছেন তিনি, সেই প্রশ্ন এখন উঠছে চারদিকে। সিডিএ চেয়ারম্যান পদে দোভাষের যোগ্যতা নিয়েও অনেকে এখন প্রশ্ন তুলছেন। এছাড়া গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে চলা নিয়েও বেশ সমালোচিত তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডে চার মেয়াদে (১৯৯৪-২০১৫) কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করা (২০১৫ সালে সন্তানতুল্য প্রার্থী হাসান মুরাদ বিপ্লবের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত) দোভাষ সিডিএ’র মত গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার দায়িত্বের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি হিসেবে সিডিএর বোর্ড মেম্বার হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করলেও এতো বড় দায়িত্বের জন্য তিনি কখনো প্রস্তুত ছিলেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিডিএ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জহিরুল আলম দোভাষকে কাউন্সিলর হিসেবে ওয়ার্ড পর্যায়ের উন্নয়নেই বেশ বেগ পেতে হয়েছে। সেখানে সমগ্র নগরের উন্নয়নে তিনি ক্যারিশমা দেখাবেন এমনটা চিন্তা করাও বোকামি।

সিডিএ’র একজন প্রকৌশলী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘দু’দফায় চেয়ারম্যান থাকার সময়ে নতুন কোনো প্রকল্প তিনি (দোভাষ) হাতে নিতে পারেননি। আগের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই হাবুডুবু খেতে হচ্ছে তাকে। যদিও পূর্বের এসব প্রকল্পে গণ্ডগোল আছে, কিন্তু সংস্থা প্রধান হিসেবে তার কাছ থেকে এসব বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা আমরা আশা করেছিলাম।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকতার কবির চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘অর্থ সংকুলান করতে না পারায় যেখানে অনেকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সিডিএ এসবের দায়িত্বভার অন্য সংস্থার উপর ন্যস্ত করেছে, সেখানে লাখ লাখ টাকা খরচ করে এসব বিজ্ঞাপন দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কেউ লাভবান হওয়ার জন্য কাজটি করেছে নাকি চেয়ারম্যানকে তৈলমর্দন করার জন্য বিজ্ঞাপনগুলো দেওয়া হয়েছে সেটাও দেখা দরকার।’

তিনি বলেন, দুর্নীতি শুধু টাকা চুরির মাধ্যমে হয় না। ক্ষমতার অপব্যবহার দুর্নীতির অন্যতম প্রধান কারণ। যারা এই বিজ্ঞাপনগুলো দিলেন, কিসের ভিত্তিতে দিলেন? সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন দেওয়ার অধিকার তাদের দিয়েছে কে? যদি সিডিএ চেয়ারম্যান এসব বিজ্ঞাপন দেওয়ার অনুমোদন দিয়ে থাকেন তাহলে উনি অবশ্যই দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। তার অগোচরে কাজটা হলে যারা এসব করেছেন তাদেরকে চেয়ারম্যানের ধরা দরকার।

আখতার কবির চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, এতো বড় সংস্থার প্রধান হিসেবে কাজ করতে গেলে দক্ষতা, আগ্রহ, তৎপরতা থাকতে হবে। এসব বিষয়ে তাঁর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তাঁর মত একজন ব্যক্তির যোগ্যতা প্রদর্শনের ব্যাপারটা সবাই ডিমান্ড করে। সেই জায়গায় থেকে ওনাকে আরও ডাইনামিক হতে হবে বলে আমি মনে করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিডিএ অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত একটি প্রতিষ্ঠান। যেখানে ট্যাক্স, বরাদ্দ, মেগাপ্রকল্পে চুরি ও দুর্নীতি খুবই স্বাভাবিক বিষয়। এমন একটা জায়গায় তিনি যদি দৃশ্যমান কোনও ব্যবস্থাই নিতে না পারেন, এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। এই সংস্থায় যারাই দুর্নীতির সাথে যুক্ত আছেন, তাদের বিরুদ্ধে ওনার ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো সিডিএ দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে।’

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সংস্থাটির প্রতিটি শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়ে গণমাধ্যমে কোন্ব ধরনের বক্তব্য কিংবা তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সিডিএ চেয়ারম্যান। যে চিঠিতে বলা হয়, শুধুমাত্র চেয়ারম্যান এবং প্রধান প্রকৌশলীই গণমাধ্যমকে সিডিএ সংশ্লিষ্ট যে কোনও বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারবেন।

এই অফিস আদেশ জারির ফলে তথ্য দিতে অসম্মতি জানাচ্ছেন সংস্থাটির বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। জানতে চাইলে সিডিএ’র একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘যেহেতু আমাদের অফিস অর্ডার দেওয়া হয়েছে, আমরা তো অফিসের নিয়ম-শৃঙ্খলার বাইরে কিছু করতে পারবো না।’

সিডিএ’র কাজে গতি না থাকার বিষয়ে জানতে আজ রোববার (২৪ এপ্রিল) সিডিএ’র সচিব মুহাম্মদ আনোয়ার পাশাকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও প্রতিবারই তিনি ফোন কেটে দেন।

অন্যদিকে সিডিএ’র অফিস অর্ডার অনুযায়ী যাদের বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার আছে সেই প্রধান প্রকৌশলী এবং চেয়ারম্যানও গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে নারাজ।

বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করেও সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ ও প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামসকে পাওয়া যায়নি। এমনকি খুদেবার্তা পাঠিয়েও এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলেও তারা সাড়া দেননি।