একুশে প্রতিবেদক : সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে হাত-পা হারিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করা তিন হতভাগা তরুণ-যুবকের যাবতীয় চিকিৎসা ও হাত-পা পুনঃসংযোজনের দায়িত্ব নিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
সোমবার (১৩ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সীতাকুণ্ড ট্র্যাজেডিতে গুরুতর আহতদের দেখতে গিয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন।
এসময় তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট, চক্ষু বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরিদর্শন করেন। তিনি চিকিৎসাধীন রোগীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের কাছে তাদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন।
পরবর্তীতে তিনি হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এসময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান, চমেক অধ্যক্ষ ডা. সাহানা আকতার, চমেক বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট প্রধান অধ্যাপক রফিক উদ্দিন, অর্থোপেডিক্স বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. চন্দন কুমার দাশ, বিএমএ সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান, সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, সহ সভাপতি ডা. রিজোয়ান রেহান, ডা. প্রণয় কুমার দত্ত, ডা. হাফিজ উদ্দিন, ডা. অংশু চৌধুরী, আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মঞ্জুর হোসাইন, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, আ জ ম নাছির পরিপূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ চিকিৎসাব্যয় গ্রহণের পাশাপাশি যে তিনজনের হাত-পা সংযোজনের দায়িত্ব নিয়েছেন তারা হলেন- হৃদয় (১৭), মো. হযরত আলী (৩৮) ও মারুফ হোসেন (২৪)।
এরমধ্যে পা-হারানো হৃদয়ের হাঁটু থেকে নিচ পর্যন্ত পা সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া থেকে পা পুনঃসংযোজন, হযরত আলীর কনুইয়ের উপর থেকে হারানো হাত-এর সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া থেকে হাত পুনঃসংযোজন এবং মো. মারুফ হোসেনের কনুইয়ের উপর থেকে হারানো হাতের সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া থেকে হাত পুনঃসংযোজন পর্যন্ত সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন আ জ ম নাছির উদ্দীন।
এই ঘোষণায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।
এছাড়াও সীতাকুণ্ড ট্র্যাজেডিতে আহতদের চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসানের হাতে একটি অর্থচেক তুলে দেন আ জ ম নাছির উদ্দীন।