রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

এ আঘাত গণতন্ত্রের প্রতি : মির্জা ফখরুল

| প্রকাশিতঃ ১৮ জুন ২০১৭ | ৫:১৮ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পথে হামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে মির্জা ফখরুল বলেছেন, এত বছরের রাজনৈতিক জীবনে এরকম ন্যাক্কারজনক হামলা তিনি দেখেননি। এ আক্রমণ গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ। এ আঘাত গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি নেতাদের গাড়ির ধাক্কায় দুই জন আহত হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

হামলায় আহতরা হলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, মাহবুবুবর রহমান শামীম ও ছাত্রদল নেতা গোলাম নবী। হামলার পর তারা রাঙামাটি না গিয়ে চট্টগ্রাম নগরে ফিরেছেন।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বেশকিছু লোক অতর্কিতে গাড়িবহরে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। মির্জা ফখরুলের গাড়ির কাচ ভেঙে গেছে। মির্জা ফখরুল হাতে আঘাত পেয়েছেন। রুহুল আমিন ঘাড়ে ব্যথা পেয়েছেন। মাহবুবুরের আঘাত মাথায়। আমার (আমির খসরু) হাত দিয়েও রক্ত বেরিয়েছে। বহরে ৫টি গাড়ির মধ্যে ৪টিই ভাঙচুর করা হয়েছে। এলাকাটি আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদের। ছাত্রলীগ-যুবলীগ এই হামলা চালিয়েছে। দিনে দুপুরে তারা হামলা চালিয়েছে, এখন মিথ্যা বলছে।

দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, চেয়ারপারসনের নির্দেশে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল রাঙামাটির উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসি। বিমানবন্দর থেকে আমরা রাঙামাটির উদ্দেশ্যে রওনা হই। পথিমধ্যে জানতে পারি সড়কে যে অংশ ভাঙন আছে, সেখান দিয়ে যাওয়া সম্ভব না। তাই কাপ্তাই গিয়ে সেখান থেকে নদী পথে রাঙামাটি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের গাড়িবহর রাঙ্গুনিয়া থানা অতিক্রম করে ইছাখালী বাজারে পৌঁছায়। সেখানে তখন প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় ৩০-৪০ জন যুবক লাঠি, হকিস্টিক ও পাথর নিয়ে হামলা চালায়। গাড়ির সামনের কাঁচ একটি বড় পাথর দিয়ে ভেঙ্গে ফেলে। তারপর হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করতে থাকে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের চরিত্র আবার উদঘাটিত হয়েছে। সবসময় মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে এলেও তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। ভিন্নমতেও তারা বিশ্বাস করে না। সহনশীলতা বলতে তাদের মধ্যে কিছু নেই। আমরা তো সেখানে কোনো জনসভা করতে যাইনি। যারা নিহত হয়েছেন সেসব পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে যাচ্ছিলাম। এই হামলা অবিশ্বাস্য। এত বছরের রাজনৈতিক জীবনে এরকম ন্যাক্কারজনক হামলা দেখিনি। আমাদের অবস্থা যদি এই হয়, সাধারণ মানুষের অবস্থা কী? পাহাড়ে এত প্রাণহানির পর সরকারের উচিত ছিল রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা। জনগণের প্রতি তাদের কোনো মায়া-মমতা-দরদ নেই।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, এ আক্রমণ গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ। সুস্থ চিন্তার মানুষের প্রতি আক্রমণ। এ আঘাত গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত। যারা মুক্ত চিন্তার কথা বলে, এ সরকারের খারাপ কাজগুলোর বিরোধিতা করে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে সোচ্চার- তাদের প্রতি এ আঘাত। যারা জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন- এ আঘাত তাদের প্রতি। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে পরাজিত করতে পারলেই এর প্রতিবাদ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু বলেন, একদিকে দেশ ও জাতির সমস্ত রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। অন্যদিকে দুর্গত মানুষের পাশেও আমরা দাঁড়াতে পারব না। আপনি এখন ত্রাণও দিতে পারবেন না। একটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সেক্রেটারি জেনারেলের ওপর এ আক্রমণ। এরপর আর বাকি থাকল কি? এরপর কি আর কোনো রাজনীতি থাকে? এরপর তারা কি চায়?