চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় পাওনা ২০০ টাকা না পেয়ে একজনকে গলা কেটে হত্যা করেছেন স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মো. ইসমাইল নামের এক যুবক।
বুধবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন ভুইয়ার আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছেন পতেঙ্গা থানার এসআই মো. মনিরুল ইসলাম।
ঘটনায় জড়িত মো. ইসমাইল (২৪) সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানার কাপনা এলাকার ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে নিহত মো. লিটন (৩৫) সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানার ধরারাই গ্রামের রজব আলীর ছেলে। পতেঙ্গা এলাকায় তারা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
এর আগে ২১ জুন ইফতারের পর বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন মো. লিটন। ২৬ জুন দুপুরে পতেঙ্গা থানাধীন মাইজপাড়া এলাকায় ঢাকাইয়া ওরফে ঢাকুনির ২য় তলা ভবনের ছাদে কংক্রিটের নিচে লুকানো অবস্থায় লিটনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় লিটনের স্ত্রী লাকী বেগম মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নামে। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২৭ জুন ইসমাইলকে পতেঙ্গা থানাধীন কয়লারহাট বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে ইসমাইল জানিয়েছেন, একসঙ্গে গাঁজা খাওয়ার সূত্র ধরে লিটনের সাথে তার পরিচয়। লিটনের কাছ থেকে ২০০ টাকা পেত ইসমাইল। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে মা-বাবার নাম ধরে গালিগালাজ করতো লিটন। সে কারণে লিটনকে খুন করার পরিকল্পনা করে ইসমাইল। এরই অংশ হিসেবে খুনের চারদিন আগে ৮০ টাকা দিয়ে কাটগড় বাজার থেকে একটি ছুরি কেনে ইসমাইল। ঘটনার দিন ২১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে লিটনকে নিয়ে ঢাকাইয়া ওরফে ঢাকুনির বাসার ছাদে নিয়ে যায় সে। এরপর দুইজনে মিলে গাঁজা খায়। লিটন বেশী নেশাগ্রস্ত হওয়ার সুযোগে তার গলায় ছুরি বসায় ইসমাইল। এরপর বস্তায় ভরে লাশটি কংক্রিটের নিচে লুকিয়ে রাখে।
পতেঙ্গা থানার এসআই মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যায় ব্যবহার করা ছুরিটি একটি পুকুরে ফেলে দিয়েছিল ইসমাইল। লিটনের মোবাইলটিও একজনের কাছে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়। ইসমাইলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ছুরি ও লিটনের মোবাইলটিও উদ্ধার করা হয়েছে। জবানবন্দি দেওয়ার পর ইসমাইলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।’