চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার পশু-পাখিদের নিয়ে দর্শনার্থীদের আগ্রহের কমতি নেই। ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানায় ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। এতে বেড়েছে কর্তৃপক্ষের লাভের অংকও।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দেশের ৪৭ প্রজাতির তিন শতাধিক পশু-পাখি রয়েছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা হয়েছে বাঘ ও বাঘিনী। বাঘ আসায় দর্শনার্থীদের কাছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার আকর্ষণ বেড়েছে। ঈদের দিন ৩০ টাকার টিকিট নিয়ে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেন ১৫ হাজারের বেশী দর্শনার্থী, দ্বিতীয় দিন যান ২০ হাজার দুইশ জন। বুধবার ঈদের তৃতীয় দিন চিড়িয়াখানার টিকিট কেটেছেন ১০ হাজারের বেশী দর্শনার্থী। ৩ বছরের ছোট বাচ্চাদের টিকিট কাটতে হয়নি। এ হিসেবে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেশী।
১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধানে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন সীতাকুন্ডের সহকারি কমিশনার (ভূমি) রুহুল আমিন।
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে নতুন রূপে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। এরইমধ্যে চিড়িয়াখানার বিভিন্ন অংশের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত ২ বছরে ১ কোটি ৭২ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। বাঘ ও সিংহ সংগ্রহ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, গার্ডার ওয়াল নির্মাণ, দৃষ্টি নন্দন ফটক নির্মাণ, খাঁচা নির্মাণ ও সংস্কার কাজে এসব ব্যয় করা হয়। এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে।’
ঈদের তিনদিনে দর্শনার্থীদের প্রবেশ মূল্য বাবদ চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সাড়ে ১৩ লাখ টাকার বেশী আয় করেছে বলে তথ্য দেন সরকারী কর্মকর্তা রুহুল আমিন।
তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় এসেছেন। ঈদের দ্বিতীয় দিন চিড়িয়াখানার ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক দর্শনার্থী আসেন। এই সুযোগে চিড়িয়াখানার আয়ও ভালো হচ্ছে। আয় থেকে এফডিআর করা হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ঈদের আগে ব্যাংক হিসাবে স্থিতি ছিল ৪০ লাখ টাকা।
বুধবার চিড়িয়াখানায় যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজাহাদুল ইসলাম বলেন, ‘চিড়িয়াখানার সংস্কার কাজ করায় অন্যরকম রূপ পেয়েছে। আগে পশ্চিম পাশে সীমানা প্রাচীর ছিল না। সে সময় দর্শনার্থীর কাছ থেকে মোবাইল টাকা-পয়সা ছিনতাই হতো। এখন সীমানা প্রাচীর থাকায় নিরাপত্তা বেড়েছে। চিড়িয়াখানাকে আকর্ষণীয় করার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।’
একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইমরুল কায়েস বলেন, চিড়িয়াখানায় গেলে অনেকে সেখানে থাকা পাহাড়ে উঠে একটু সময় কাটাতে চান। কিন্তু পাহাড়ে উঠলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। কেউ কেউ সেখানে একান্তে সময় কাটাতে যান। পাহাড় নিয়ে কর্তৃপক্ষের মনোযোগ দেওয়া উচিত।
এদিকে চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে সড়ক প্রশস্তকরণসহ আরও উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল আমিন।