চট্টগ্রাম : মৃত্যুবার্ষিকীর একদিন পর সাবেক মন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী প্রয়াত জহুর আহমেদ চৌধুরীর জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সদস্য, চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি এম এ লতিফ।
শনিবার জহুর আহমেদ চৌধুরীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আ.লীগের আলোচনায় সভায় দলের দায়িত্বশীল নেতাদের অনুপস্থিতি দেখে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ক্ষোভ প্রকাশের একদিনের মাথায় তড়িঘড়ি করে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্মরণে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় এমপি এম এ লতিফের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে।
রোববার বিকেলে এমপি লতিফের বন্দরের ৩ নং জেটিগেইটের কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল ও সংক্ষিপ্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়। রোববার সন্ধ্যায় জনৈক মোহাম্মদ ইকবালের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রেসবিজ্ঞপ্তির সঙ্গে পাঠানো ছবিতে দেখা যায়, জহুর আহমদ চৌধুরী স্মরণে দোয়া মাহফিলের আয়োজন হলেও এ উপলক্ষে কোনো ব্যানার হয়নি। সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি ছোট আকারের ছবি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্ধকাটা ছবি এবং এমপি লতিফের ঢাউস সাইজের ছবির পাশাপাশি ‘আলোচনা সভা’ লেখা সম্বলিত একটি পুরনো ব্যানার ঝুলিয়ে আয়োজন করা হয়েছে দোয়া মাহফিল।
এমপি এম এ লতিফের উপস্থিতি ছাড়া এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শেখ মাহমুদ ইসহাক, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল হক মিয়া, ৩৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান আহমেদ, জহুর আহমদ চৌধুরীর ছোট ছেলে সরফুদ্দিন চৌধুরী রাজু, লবণ শ্রমিকলীগ সভাপতি আবদুল মতিন মাস্টার, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক কর্মচারী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ ইমাম হোসেন, ৩৬ নং ওয়ার্ড ইউনিট আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল মান্নান চৌধুরী, ৩৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল আলম মিন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ ফরিদ কন্ট্রাক্টর, মনজুর খান, সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রলীগ সভাপতি ইমতিয়াজ বাবলা, মহানগর ছাত্র লীগের সহ-সম্পাদক মোঃ আরিফ, যুবলীগ নেতা রেজাউল করিম বাবলু, শহীদ, জুয়েল, প্রমুখ বক্তৃতা করেন বলে জানানো হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জহুর আহমেদ চৌধুরীকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সত্যিকারের সৈনিক আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর মত ভোগের নয়, ত্যাগের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের কাছে তিনি অনুকরণীয় আদর্শ।
দোয়া মাহফিলে মরহুম জহুর আহমেদ ছাড়াও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে মুনাজাত করা হয়।
প্রসঙ্গত, শনিবার দলীয় উদ্যোগে জহুর আহমদ চৌধুরীর ৪৩ তম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের দরিদ্র উপস্থিতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মো. নঈম উদ্দিন চৌধুরী ও খোরশেদ আলম সুজন।
এসময় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, মিটিং-মিছিল, মাঠে-ঘাটে আমরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করব। পুলিশের পিটুনি খাব। আর আপনারা পদ নিয়ে শুধু দলের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন-তা আর কতদিন চলবে। দলের নিষ্ক্রিয় নেতাদের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেবেন বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
নঈম উদ্দিন চোধুরী বলেন, নূরুল ইসলাম বিএসসি সাহেব মন্ত্রী হয়েছেন, তিনি নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তিনি দলের কর্মসূচিতে আসেন না। আফছারুল আমিন সাহেব সাবেক মন্ত্রী, এখন এমপি। নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অথচ তিনিও আসেন না। এম এ লতিফ দুইবার এমপি হয়েছেন, তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য, তিনি আসেন না। দিদারুল আলম আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে এমপি হয়েছেন। তাকে দলের কোনো কর্মসূচিতে কখনও দেখিনি। সিডিএর চেয়ারম্যান ছালাম সাহেব দলের কোষাধ্যক্ষ; আসেন না কেন?
নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, মহানগরীতে যে ছয়টি আসন আছে, একজন এমপিও দলের তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতা নন। তারা পরগাছা। তারা শুধু নিজেরটা প্রচার করে, সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার করে না। তৃণমূলকে জাগাতে হলে পরগাছাদের বিদায় করে সত্যিকারের ত্যাগী এবং আওয়ামী লীগের অন্তপ্রাণ নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে।