:: একুশে প্রতিবেদক ::
চট্টগ্রাম: ১১টি জেলার পরিবেশ সংক্রান্ত মামলার বিচারের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ আদালত। ২০১৫ সালে এই আদালতে মামলা হয়েছে মাত্র ৪টি। এর মধ্যে দুইটি পরিবেশ অধিদপ্তর ও দুইটি ব্যক্তি উদ্যোগে করা হয়েছে। আর চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে এ আদালতে দায়ের হয়েছে মাত্র ৬টি মামলা। এর মধ্যে তিনটি মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বাকি তিনটি ব্যক্তি উদ্যোগে করা হয়েছে। সে হিসেবে গত ১৭ মাসে পরিবেশ বিষয়ক মামলা হয়েছে মাত্র ১০টি!
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘একটি জেলায় প্রতি মাসে যদি একটি করেও মামলা হয়, তাহলে গত ১৭ মাসে ১৮৭টি মামলা হওয়ার কথা। কিন্ত মামলা হয়েছে মাত্র ১০টি। তাই বলে পরিবেশ দূষণ কমে যায়নি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি জেলাজুড়ে ব্যাপক পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। একজন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজের অধীনে থাকা এ আদালত অচিরেই মামলা শূন্যতায় পতিত হবে।’
এদিকে ক্ষতিগ্রস্তরা সরাসরি পরিবেশ আদালতে মামলা করতে পারছেন না। এক্ষেত্রে অভিযোগ জানিয়ে ভুক্তভোগীকে প্রথমে পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করতে হয়। অধিদপ্তর দুই মাসের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আদালতে মামলা করতে পারেন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি। এভাবে মামলা দায়ের ও তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা ও বিচার বিলম্বিত হয় বলে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই আদালতে যেতে চান না। শুধু তাই নয়; আদালতে গিয়েও ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই বছরের পর বছর বিচার পাচ্ছেন না।
২০০৫ সালে দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকায় মের্সাস গরিবুল্লাহ শাহ ব্রিকস নামে একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ ছাড়পত্র না নিয়ে ও কৃষিজমি ধ্বংসের অভিযোগে মালিক এয়ার মোহাম্মদ ও কর্মচারী মোঃ হেলালকে আসামি করে মামলা করেন অধিদপ্তরের তৎকালীন পরিচালক মোশাররফ হোসাইন। আর ওই মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পর্যন্ত দেয়নি পরিবেশ অধিদপ্তর।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিবেশ সংক্রান্ত মামলা দায়ের, সাক্ষী ও তদন্তের দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের। কিন্তু পরিবেশ ধ্বংসের ঘটনায় তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন না। কিছু কিছু মামলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সাক্ষী দিতেও আসছেন না। এছাড়া মামলার তদন্ত নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা উদাসীন। এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। এমনকি বেশ কিছু মামলা গড়াচ্ছে বছরের পর বছর।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু চক্রবর্তী বলেন, ‘পরিবেশ আইনের মামলাগুলোর সাক্ষীদের হাজির করতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
পরিবেশ আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা তদন্ত প্রক্রিয়ার ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অজ্ঞতা রয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা অনেক সময় ঘটনার আলামত সংগ্রহ করে না। কেইস ডায়েরি পর্যায় ক্রমিকভাবে করেন না। তাদেরকে আইনের বিভিন্ন বিষয় জানানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেই।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালের ১৬ মার্চ চট্টগ্রামে পরিবেশ আদালত প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৪১৩টি। এরমধ্যে বিচারাধীন রয়েছে ৫৫টি মামলা। আর তদন্তাধীন রয়েছে শতাধিক মামলা। মামলাগুলোর মধ্যে অধিকাংশই পাহাড় কাটা, অবৈধ ইটভাটা, পলিথিন, বায়ুদূষণ, পোলট্রি ফার্ম দূষণ ও জলাশয় ভরাট-সংক্রান্ত।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানার মাধ্যমে অনেক অভিযোগের নিষ্পত্তি করে দেয়ার ফলে মামলা কম দায়ের হচ্ছে। পরিবেশ মামলা তদন্ত করতে পারেন এমন ১১ কর্মকর্তার স্থলে রয়েছেন মাত্র দুইজন। এ কারণে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে সময় লাগছে। এছাড়া বদলি হওয়ার কারণে অনেক কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিতে হাজির হতে পারেন না।
এদিকে একই বিষয়ে জানতে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মকবুল হোসেনের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।