রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

আমিই হিটলার, দাবি ১২৮ বছর বয়সী বৃদ্ধের

| প্রকাশিতঃ ৫ জুলাই ২০১৭ | ৯:৫১ পূর্বাহ্ন

আনন্দবাজার পত্রিকা: জামার্নির বহুল আলোচিত-সমালোচিত অ্যাডলফ হিটলার তাহলে বেঁচে আছেন! আর্জেন্টিনার এক বৃদ্ধের দাবি সত্যি হলে অবিশ্বাস্য এ বাস্তবতার মুখোমুখিই হতে যাচ্ছে বিশ্ব! হারমান গুটেনবার্গ নামের এক বৃদ্ধ দাবি করেছেন, তিনিই অ্যাডলফ হিটলার। এর সপক্ষে নানা ‘প্রমাণ’ও তুলে ধরেছেন তিনি। এ নিয়ে নানা যুক্তি-তর্কে একটি বিষয় অবশ্য অনেকেরই চোখ কপালে তুলে দিয়েছে। বৃদ্ধ দাবি করেছেন, তার বয়স ১২৮। বেঁচে থাকলে ১৮৮৯-এ জন্মানো হিটলারেরও একই বয়স হতো। ওই বৃদ্ধের দাবি নিয়ে তাই আর্জেন্টিনা ও লাতিন আমেরিকার কয়েকটি গণমাধ্যমও বেশ সরগরম।

সালতার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধ এল প্যাট্রিওটা নামের একটি সংবাদপত্রকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে হারমান গুটেনবার্গ নামে পরিচিত ওই বৃদ্ধ জানিয়েছেন, ১৯৪৫ সালের বিপর্যয়ের পর তিনি আর্জেন্টিনায় চলে আসেন। আত্মগোপন করতে নিজের নাম বদলে নেন। জার্মান গুপ্তচররা হারমান গুটেনবার্গের নামে পাসপোর্ট বানিয়ে দেয়। ইতিহাস বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর পরাজয়ের পর ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল আত্মহত্যা করেন হিটলার। এ তথ্যকে মেনে নিয়েছেন জার্মানরাও। কিন্তু হারমানের দাবি নতুন করে ভাবাচ্ছে, ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল আদৌ কি মৃত্যু হয়েছিল হিটলারের?

২০১৬ সালের জুলাইয়ে এবেল বাস্তির লেখা ‘হিটলার ইন এক্সাইল’ (নির্বাসনে হিটলার) নামে একটি বই প্রকাশিত হয়। বইটিতে দাবি করা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর পরাজয়ের পর, হিটলার আর্জেন্টিনায় চলে আসেন এবং সেখানে দশ বছর আত্মগোপন করে থাকেন। এর পর তিনি প্যারাগুয়ে চলে যান। তবে এবেল বাস্তির লেখা বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সে দেশেই মৃত্যু হয় হিটলারের। মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) প্রকাশিত একটি রিপোর্টেও দাবি করা হয় যে, ১৯৪৫-এ হিটলার মরেননি, তিনি আর্জেন্টিনায় পালিয়ে যান।

রুশ সংবাদ সংস্থা স্পুটনিক এক প্রতিবেদনে বলছে, আর্জেন্টাইন বৃদ্ধের আরও দাবি, দীর্ঘ ৭০ বছর তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন। এর মধ্যে দীর্ঘসময় তিনি ইসরাইলের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছেন। বৃদ্ধের কথায়, সে জমানায় মোসাদের কাজ ছিল যুদ্ধাপরাধী নাৎসি বাহিনীর শীর্ষ নেতাদের খুঁজে বের করা। ১৯৬০ সালে নাৎসি বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল অ্যাডলফ এইচমানের গ্রেফতার মোসাদের সাফল্যের অন্যতম উদাহরণ।

কিন্তু এই বয়সে পৌঁছে মানুষের স্মৃতিশক্তি কতটা নির্ভরযোগ্য? গুটেনবার্গের এসব দাবিকে প্রলাপ বলেই মনে করছেন অনেকে। এমনকি বৃদ্ধের স্ত্রী ৫৫ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলা মার্টিনেজেরও দাবি, তার স্বামী অ্যালঝাইমারসের শিকার। স্মৃতিভ্রংশের ফলেই এসব বলছেন গুটেনবার্গ। অ্যাঞ্জেলা আরও বলেন, ২০১৫ সাল পর্যন্ত কখনও এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি গুটেনবার্গ। তবে তার বিশ্বাস, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গুটেনবার্গ হয়তো নাৎসি বাহিনীতেই ছিলেন। সে সময় ইহুদিদের প্রতি হওয়া বর্বরতায়, নাৎসি বাহিনীর কৃতকর্মে তিনি আজ অনুতপ্ত। তাই ইদানীং এসব কথা বলছেন।

অ্যাঞ্জেলার ধারণা যাই হোক না কেন, গুটেনবার্গ যখন নিজেকে হিটলার বলে দাবি করে একের পর এক তথ্য সামনে আনছেন, তখন কাকতালীয়ভাবেই আর্জেন্টিনার বুয়েনেস আইরেসের একটি বাড়ির গুপ্ত কুঠুরির মধ্যে থেকে সন্ধান মিলেছে নাৎসিদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রের ভাণ্ডার।

আর্জেন্টিনার এই ১২৮ বছরের বৃদ্ধের বক্তব্য সত্যি না অ্যালঝাইমারসে আক্রান্ত মানুষের প্রলাপ, সে বিষয়ে ধোঁয়াশা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। ওই বৃদ্ধ অবশ্য তার শেষ ইচ্ছের কথাও জানিয়েছেন। তিনি ‘আত্মজীবনী’ (অ্যাডলফ হিটলারের) লিখবেন। তার বিশ্বাস, এই আত্মজীবনী বিশ্বের মানুষের কাছে হিটলার সম্পর্কে অনেক ধারণা পাল্টে দেবে।