
কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম) : সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়াসহ সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, আনোয়ারা উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ আজ বুধবার রাতে (২২ এপ্রিল) সাহরি খেয়ে রোজা শুরু করবেন।
সাতকানিয়া উপজেলার মির্জারখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন।
এদিকে মির্জারখীল দরবার শরীফের অনুসারী সাতকানিয়া উপজেলার মির্জারখীল, সোনাকানিয়া, গারাঙ্গিয়া ও গাটিয়াডাঙ্গা, লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা চরম্বা ও চুনতি, বাঁশখালী উপজেলার জালিয়াপাড়া, ছনুয়া, মক্ষিরচর, চাম্বল, শেখেরখীল, ডোংরা, তৈলারদ্বীপ ও কালিপুর পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও, বাহুলী, ভেল্লাপাড়াসহ ৫০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ বুধবার রাতে প্রথম রোজার সাহরি খেয়ে রোজা রাখবেন।
মির্জারখীল দরবার সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ জাহাগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবারের দুইজন খলিফা হযরত আতিক উল্লাহ শাহ্ সাহেব (রহ.) এবং হযরত আবুল হোসেন (রহ.) প্রায় ১২৫ বছর আগে থেকে অত্র এলাকায় তাদের পীরানে পীরের নির্দেশ ও মাজহাব মতে পৃথিবীর কোথাও চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে সব মুসলিমধর্মীয় কার্যক্রম পালন করে আসছেন।
প্রায় আড়াইশ’ বছর আগে সাতকানিয়া মির্জারখীল গ্রামে হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাগিরিয়া (রহ.) হানাফি মাজহাবের ফতোয়া অনুযায়ী পৃথিবীর যেকোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলে রোজা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহাসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করার ফতোয়া দিয়েছেন। তাঁরই উত্তরসূরি হযরত মাওলানা আবদুল হাই জাহাগিরির অন্যতম প্রধান খলিফা চন্দনাইশ শাহ সুফি দরবারের পীর হযরত মাওলানা শাহ সুফি আমজাদ আলী (রহ.) মুরিদ ও অনুসারীরা একই নিয়মে সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।
মির্জাখীল দরবারে আলিয়া জাহাগিরিয়ার মাওলানা আবদুর রহমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমরা যেহেতু সৌদি আরবের দিনক্ষণ অনুসরণ করি, সে অনুযায়ী বুধবার রাতে আমরা সাহরি খেয়ে রোজা রাখা শুরু করব। বৃহস্পতিবার থেকে আমাদের প্রথম রোজা শুরু হবে।
এ ছাড়া হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজার, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারী রয়েছেন, তারাও বুধবার রাতে সাহরি খেয়ে রোজা রাখবেন।