রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

‘আঘাতে নিস্তেজ হয়ে আসে দেহ, এরপর ঝুলিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় দিয়াজকে’

| প্রকাশিতঃ ২ অগাস্ট ২০১৭ | ৭:৩৭ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: ‘আঘাতের ফলে জখমের কারণে নিস্তেজ হয়ে আসে দেহ। এরপর দেওয়া হয় ঝুলিয়ে। এতে শ্বাসরোধে মৃত্যু ঘটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এই মত দিয়েছেন। বুধবার চট্টগ্রামের আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

দিয়াজের বোন অ্যাডভোকেট জুবাঈদা ছরওয়ার নিপা বলেন, চট্টগ্রামের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে বুধবার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সিআইডি।

আদালত সূত্র জানায়, ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের দেয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামের আদালত পুলিশের হাটহাজারী থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তাকে জমা দেয় সিআইডি। পরে মুখ্য বিচারিক হাকিমের কাছে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

একই সাথে তদন্তের জন্য দীর্ঘ সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির একটি প্রতিবেদনও জমা দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধ ও অন্য কোন কারণে দিয়াজ খুন হতে পারে। এজন্য তদন্তে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।

ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের দেয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে চারজন চিকিৎসক স্বাক্ষর করেছেন- ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ, প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস ও ডা. কবির সোহেল এবং প্যাথলজী বিভাগের প্রধান ডা. মালিহা হোসেন।

এতে এই চিকিৎসকরা যৌথভাবে মতামত দেন- রাসায়নিক পরীক্ষা,হিস্টোপ্যাথলোজিক্যাল রিপোর্ট, আগের ময়না তদন্ত রিপোর্ট, অন্যান্য বিষয়াদি, ক্রাইম সিন পরিদর্শন, মৃত্যের ছবি (পুলিশের দেওয়া) পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ময়না তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখিত আঘাতের জখমের কারণে সে কোমায় চলে যায়। পরবর্তীতে ঝুলানোর কারণে হয়েছে মৃত্যু। যার কারণে এটি হত্যাকান্ড।

ময়না তদন্ত রিপোর্টে বাম হাতের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত মধ্যবর্তী স্থানে কাঁটার কারণে জখম, বাম কাঁধের সামান্য নিচে জখমের চিহ্ন এবং ডান পায়ের উপরের অংশে কাঁটা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ গত বছরের ২০ নভেম্বর তার ক্যাম্পাসের বাসা থেকে উদ্ধারের পর থেকে হত্যার সন্দেহের কথা বলে আসছিল তার পরিবার। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম দফা ময়নাতদন্তে আত্মহত্যা বলা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করে হত্যা মামলা করেন দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী।

বাদির আবেদনে আদালতের নির্দেশে ১১ ডিসেম্বর দিয়াজের লাশ পুনঃময়নাতদন্ত করে ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকেরা। পুনঃময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে নিয়ে গত ৩০ জুলাই তদন্ত সংস্থা সিআইডি জানায়, শ্বাসরোধে দিয়াজ খুন হয়েছে।