চট্টগ্রাম: ভূল চিকিৎসায় এক বিচারকের স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় দুই চিকিৎসকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।এর আগে সকালে অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত মামলাটি সরাসরি আমলে নেয়।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মহানগর হাকিম হারুনুর রশিদ এ পরোয়ানা জারি করেন।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা আসামিরা হলেন- গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা.কাজল রেখা রায় ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কার্ডিয়াক সার্জারির রেজিস্ট্রার ডা. দেবাশীষ তালুকদার এবং নগরীর পেশেন্ট কেয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জব্বার।
মামলায় বাদিপক্ষের আইনজীবী আরেফিন রিজভি জানান, দণ্ডবিধির ৩০৪, ৩০৪ (ক) এবং ৩৪ ধারায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধজনক নরহত্যা ও পেশাগত অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত মামলা আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৭ মার্চ সায়মা-মোরশেদ দম্পতির বিয়ে হয়। গত ৩ জুন ভোর সাড়ে ৬টায় নগরীর ৫৭, কেবি ফজলুল কাদের চৌধুরী রোডের মায়াবিনী বিল্ডিংয়ে পেশেন্ট কেয়ার হাসপাতালে সায়মার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর প্রায় ৫ ঘণ্টা আগে তিনি এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।
সায়সা হচ্ছেন নোয়াখালীর সহকারি জেলা জজ মোরশেদুল আলমের স্ত্রী সায়মা শিকদার (২২)। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সম্মান চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ও নগরীর অক্সিজেন-কাপ্তাই লিংক রোডের নয়াহাট এলাকার সাংবাদিক বিল্ডিংয়ের এমদাদউল্লাহর মেয়ে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সায়মার সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল ২০ জুন। কিন্তু ২ জুন দিবাগত রাতে সায়মার প্রসব ব্যাথা উঠলে ডা.কাজল রেখা রায়ের পরামর্শে সায়মাকে প্যাশেন্ট কেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। রাত ১টার দিকে সিজার অপারেশন করার কথা বলেন চিকিৎসক। এরপর রাত ২টায় অপারেশন থিয়েটারে সায়মা ছেলের জন্ম দেন। ৩ জুন সকাল পৌনে ৭টার দিকে সায়মাকে মেট্রোপলিটন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মেট্রোপলিটনের চিকিৎসকেরা রোগীর পরিবারকে জানান, রোগিকে সেখানে নেয়ার ঘণ্টাখানেক আগেই মারা গেছেন।