নয়াদিল্লী: ভারতের স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক গুরু গুরমিত রাম রহিম সিং তার দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্য জুড়ে টান টান উত্তেজনা আর নিরাপত্তার ব্যাপক কড়াকড়ির মধ্যে শুক্রবার চণ্ডিগড়ের পাঁচকুলার একটি বিশেষ আদালত এই রায় ঘোষণা করে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের হরিয়ানায় আলোচিত ‘ধর্মগুরু ও সমাজ সংস্কারক’ গুরমিত রাম রহিম সিংকে ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত করাকে কেন্দ্র করে আগুন জ্বলছে রাজ্যজুড়ে। রাস্তায় রাস্তায় গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক রেলওয়ে স্টেশন ও পেট্রোল পাম্পে। এই বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছে কেন্দ্রীয় রাজধানী নয়াদিল্লিতেও। সেখানে একাধিক বাসে অগ্নিসংযোগের খবর মিলেছে। পরিস্থিতি মোতায়েনে হরিয়ানার রাজধানী চন্ডিগড়সহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী পর্যন্ত। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রাম রহিম ভক্তদের সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৭ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৭০ জন।
ধর্ষণের দায়ে পঞ্জাবের ধর্মীয় গোষ্ঠী ডেরা সাচ্চা সওদার প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের কী সাজা হবে, আদালত সেই সিদ্ধান্ত জানাবে সোমবার।
রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগর ও হনুমানগড়ে ১৪৪ ধারা জারি করার পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। বহু লোককে গ্রেপ্তার করতে হতে পারে- এমন ধারণা থেকে পুলিশ একটি স্টেডিয়ামও অধিগ্রহণ করে।
হরিয়ানা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, রায় যাই হোক, কর্তৃপক্ষ যে কোনো মূল্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই সিরসায় নিজের সাংগঠনিক দপ্তর থেকে ১০০ গাড়ির বহর নিয়ে রওনা হয়ে আড়াইশ কিলোমিটার দূরে পাঁচকুলা আদালতে পৌঁছান রঙদার চরিত্র রাম রহিম সিং। তবে ওই বহরের দুটি গাড়িকে শেষ পর্যন্ত আদালতে চত্বরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়।
আদালত দুপুরে রায় ঘোষণার পরপরই ৫০ বছর বয়সী রাম রহিমকে কড়া পাহারার মধ্যে আম্বালা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। রায় শোনার পর আদালতের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বহু সমর্থক।
শিখ, হিন্দু, মুসলিম- সব ধর্মের চেতনা মিশিয়ে বাবা রাম রহিম তৈরি করেছেন তার আশ্রম- ডেরা সাচ্চা সওদা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম লিখেছে, একাধারে ধর্মপ্রচারক, সমাজ সংস্কারক, গায়ক, চিত্রনায়ক ও পরিচালক বাবা রাম রহিমের মতো বর্ণময় চরিত্র ভারতের অজস্র ধর্মগুরুর মধ্যেও বিরল।
হরিয়ানায় গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রতি সমর্থন দিয়েছিলেন রাম রহিম। লাখ লাখ ভক্ত থাকায় বড় ভোট ব্যাংক বিবেচনা করে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির অনেক নেতাই তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রাখেন।
কিন্তু পনেরো বছর আগে নিজের আশ্রমেই দুজন ভক্ত মহিলাকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির চিঠির সূত্র ধরে ২০০২ সালে এই ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে সিবিআই। সেখানে বলা হয়, ১৯৯৯ সালে নিজের আশ্রমে দুই শিষ্যাকে ধর্ষণ করেন রাম রহিম।
২০০৭ সালে শুনানি শুরুর পর দশ বছরের মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে। বিচারের পুরোটা সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছেন ডেরা সাচ্চা সওদার প্রধান।