শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

সাগরে লঘুচাপ, মঙ্গলবার সারাদেশে বৃষ্টি বাড়বে

| প্রকাশিতঃ ১ অক্টোবর ২০২৩ | ৮:৫৭ পূর্বাহ্ন


ঢাকা : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে, আরও ঘনীভূত হতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যে আগামী পরশু ও তার পরদিন, অর্থাৎ টানা দুদিন ঢাকায় বৃষ্টি হবে বেশি।

এদিকে, গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রার পারদ একটু চড়া। তাপপ্রবাহ না চললেও আশ্বিনের মাঝামাঝি তথা শরতের একদম শেষ ভাগে এসেও দেশের বেশিরভাগ এলাকাতেই গরম কমছে না। তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য বলছে, লঘুচাপের প্রভাবে হলেও আগামী কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তাপমাত্রা এবং এর সঙ্গে গরমও কিছুটা কমে আসবে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে বলেন, শুক্রবার কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় তাপমাত্রা সামান্য কমেছে। এখন সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অল্প পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী মঙ্গল ও বুধবার (৩ ও ৪ অক্টোবর) বৃষ্টি বেশি হবে, বিশেষ করে ঢাকায়। এর ফলে তাপমাত্রা আরও কমে আসবে।

শনিবার আবহাওয়া অধিদফতর তিন দিনের পূর্বাভাস ছাড়াও বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার তথ্য জানিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে প্রযোজ্য পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় দেশে নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর ও সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে বর্তমানে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষ হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপরে মোটামুটি সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল আকারে রয়েছে।

এর প্রভাবে আজ রোববার (১ অক্টোবর) খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় এবং সিলেট, ঢাকা, রংপুর প ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গাতেও হতে পারে বৃষ্টি।

পূর্বাভাসে আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায়; এবং ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এ ছাড়া আগামীকাল সোমবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

পূর্বাভাসে আজ সন্ধ্যার পর থেকে পরের ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আর বর্ধিত তথা পরের পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সৈয়দপুরে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সময়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে- ৪৭ মিলিমিটার।

এদিকে সাগরের বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মধ্য উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে বর্তমানে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অব্যাহতভাবে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছ আবহাওয়া অধিদফতর। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।