ঢাকা: খুনি-জঙ্গিদের ধরতে পাড়ায় পাড়ায় সর্বদলীয় কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত নাগরিক সমাজ।
এ ক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গেও আলোচনা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তবে তার আগে বিএনপিকে জামায়াত ত্যাগের শর্ত দিয়েছেন নাগরিকরা।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সম্মিলিত নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সন্ত্রাসবাদ, নৈতিকতা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এ সব কথা বলেন নাগরিকরা।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, ‘খুন হয় কিন্তু খুনীদের ধরা যায় না। খুনি-জঙ্গিদের ধরতে পাড়ায় পাড়ায় সর্বদলীয় দল গঠন করতে হবে। এটা যুদ্ধ করতে নয়, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-খুনিদের ধরতেই এ কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সর্বদলীয় দল গঠন করতে প্রয়োজনে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিএনপিকে যুদ্ধপরাধী দল জামায়াত ত্যাগ করে তওবা পড়ে আসতে হবে।’
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মো. আব্দুর রশীদ।
এতে তিনি বলেন, ‘গত ১৮ মাসে ৪৬টি জঙ্গি হামলার ঘটনায় মুক্তমনা লেখক, বøগার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিদেশী নাগররিক ও পুলিশ সদস্যসহ খুন হয়েছেন ৪৮ জন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর ৬৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
১৬ কোটি মানুষকে পুলিশি সুরক্ষা দেয়া সম্ভব নয় জানিয়ে জঙ্গিদের মূল উৎপাটন করে সুরক্ষা তৈরিরও প্রস্তাব করা হয় মূল প্রবন্ধে।
গোলটেবিলের সভাপতি ও সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গীবাদ ঠেকাতে মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে একত্রে কাজ করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিবেকবোধ জাগ্রত করতে হবে। তাহলেই সন্ত্রাসবাদ দমনের পাশাপাশি মানবতার মুক্তি সম্ভব হবে।’
সাংবাদিক ও কলামনিস্ট আবেদ খান বলেন, ‘জঙ্গিবাদ আমাদের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে দিচ্ছে। ধর্মের কথা বলেই সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। কারণ ভারতের সঙ্গে যেন বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পাকিস্থানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই নানা ভাবে সক্রিয় হয়ে এ ধরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে জঙ্গিবাদের বিকট রূপ আমরা দেখতি পাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা চাপাতিতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। এদের প্রতিহত করতে আইন ও যুক্তি দিয়ে কাজ হবে না। স্পেশাল ফোর্স নামাতে হবে।’
সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সহ-সভাপতি ম হামিদের পরিচালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেনÑ অধ্যাপক একেএম নূর-উন-নবী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির, শহীদ সন্তান ড. নুজহাত চৌধুরী, মুন্সি ফয়েজ আহমেদ, একেএম হামিদ প্রমুখ।