রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

ইভ্যালির কাছ থেকে পাওনা আদায়যোগ্য : হাইকোর্ট

| প্রকাশিতঃ ২১ অক্টোবর ২০২৩ | ৮:০২ অপরাহ্ন


ঢাকা : আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির অবসায়ন ও পাওনা অর্থ ফেরত চেয়ে রিট মামলায় পক্ষভুক্ত হতে এক গ্রাহকের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। সম্প্রতি এ রিট খারিজ করে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির কোনো গ্রাহক যদি প্রকৃত পাওনাদার প্রমাণিত হন তাহলে ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের অধীনে সেই পাওনা আদায়যোগ্য। তিনি পাওনা পেতে পারেন। তবে এই মুহূর্তে পাওনা ফেরত চেয়ে রিটে কোনো আবেদনকারীকে পক্ষভুক্ত করলে ফ্লাডগেট (রেসট্রিকশন তুলে নেওয়া) খুলে যাবে। এতে সমস্যা বহুগুণ বেড়ে যাবে।

মো. মোহসান হোসেন নামে ওই গ্রাহকের পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন খারিজ করে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন। সম্প্রতি রিট খারিজ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ আদেশ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদেশের কপি ঢাকা পোস্টের হাতে এসেছে।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, যদি আবেদনকারীকে এই রিট মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয় তাহলে অসংখ্য গ্রাহক আদালতে এ ধরনের আবেদন নিয়ে আসবে। এতে সমস্যা বহুগুণ বেড়ে যাবে। যা মূল রিট মামলার যথাযথ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

হাইকোর্ট আবেদনকারীকে আশস্ত করে আদেশের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এটা স্পষ্ট যে আবেদনকারী যদি প্রকৃত পাওনাদার হন এবং যদি তা প্রমাণিত হয় তবে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এর বিধান অনুযায়ী আবেদনকারী তার পাওনা পেতে পারেন। তার দাবি আদায়যোগ্য হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে পাওনা চেয়ে আবেদন বিবেচনাযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে মূল রিট মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাসুম ও ব্যারিস্টার মাহসিব হোসেন তাদের শুনানিতে বলেছেন, যদি আবেদনকারী একজন পাওনাদার হিসাবে প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে তার দাবি কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এর প্রাসঙ্গিক বিধানের অধীনে বাস্তবায়িত হবে। তাকে রিট মামলায় পক্ষভুক্ত করার কোনো প্রয়োজন নেই।

তারা আদালতে বলেন, শেষ পর্যন্ত যদি কোম্পানিটি অবসায়ন হয় সেক্ষেত্রে আবেদনকারী তাদের পাওনা দাবি করে লিকুইডেটরের (কোম্পানির বিষয় দেখাশোনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) কাছে যাবেন এবং আবেদনকারী তার পাওনা কোম্পানি আইনের বিধান অনুযায়ী অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পেতে পারেন।

গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে এ সংক্রান্ত রিট করা হয়, আদালত রায় দেন ২৩ জুলাই। আর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে গত ১৬ অক্টোবর (সোমবার)।

পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদনে যা বলা হয়েছে

আবেদনকারী মো. মোহসান হোসেন ইভ্যালির অনলাইন শপিংয়ের ওয়েবসাইটে একটি গ্রাহক অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং একটি বাজাজ পালসার নিয়ন মোটরবাইক কেনার অর্ডার দেন। সেই অনুযায়ী ৯৭ হাজার ৪৪৮ টাকা পেমেন্ট করেন। কিন্তু পরে বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া থেকে জানতে পারেন যে, ইভ্যালি কোম্পানি তার গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে জনসাধারণের অর্থ প্রতারণা করেছে।

আবেদনে আরো বলা হয়েছে, আবেদনকারী ইভ্যালি কর্তৃপক্ষের কাছে অর্থ দাবি করেছিলেন। কিন্তু তারা আবেদনকারীর বৈধ দাবি নিষ্পত্তির জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এরপর আবেদনকারী কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর অধীনে ইভ্যালিকে নোটিশ দেন। নোটিশে কোম্পানিকে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৪১৪ টাকার সুদের সঙ্গে অর্থ প্রদানের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডি ব্যর্থ হয়েছে। আবেদনকারী ইভ্যালি কোম্পানির পাওনাদার, তাই তাকে রিট মামলায় পক্ষভুক্ত করা উচিত। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, বিদ্যমান আবেদনকারী এবং আবেদনকারী মো. মোহসান হোসেনের মধ্যে স্বার্থের কোনো দ্বন্দ্ব নেই এবং বিরোধের যথাযথ বিচারের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আবেদনকারীকে পক্ষভুক্ত যুক্ত করা উচিত।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা ও অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান।