
চট্টগ্রাম : নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। প্রথা অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিন আগেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এখনও তফসিল ঘোষণা করেনি শিক্ষক সমিতি। এ ঘটনায় শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির তিন সদস্য লিখিত আপত্তিও জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এক বছরের জন্য গঠিত হয় এ কমিটি। কমিটি গঠনের পরদিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে এ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নানা বিষয়ে দ্বন্ধে জড়ান। সর্বশেষ আইন অনুষদে দুই জন শিক্ষক নিয়োগের বিরোধিতা করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষক সমিতির দুই শীর্ষ নেতার কিছু অনুসারী৷
এক পর্যায়ে দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করে উপাচার্য তাদের চিঠি দিয়ে আলোচনার আমন্ত্রণ জানান। এরপরও আলোচনায় বসেননি সমিতির নেতারা৷ এর আগে দফায় দফায় শিক্ষক সমিতির সভাপতিকে উপাচার্য মুঠোফোনে কল দিয়েও আমন্ত্রণ জানায়। তখনও শিক্ষক সমিতির এই অংশের নেতারা উপাচার্যের কাছে না গিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিপ্রায়ে রাষ্ট্রপতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে থাকেন। উপাচার্য যদি কোনো ভুল করে সে বিষয়ে শিক্ষক সমিতি চিঠি দিয়ে সমাধান চাইতে পারে। পরবর্তী ধাপে আন্দোলনও করতে পারে। কিন্তু উপাচার্য যখন দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় বসতে আমন্ত্রণ জানান, তখন কিন্তু আন্দোলনকারী শিক্ষকদের তার সঙ্গে বসতে হবে। কারণ শিক্ষক সমিতির কাজ শিক্ষকদের দাবি আদায় করা। দাবি আদায় হওয়ার জন্য যা যা করার আছে তা-ই করতে হবে। কিন্তু উপাচার্য আলোচনায় বসার জন্য বারবার প্রস্তাব দেওয়ার পরও শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপাচার্যের কাছে না যাওয়ার মানে হলো এখানে দাবি আদায়ের নামে অন্য কোনো ব্যক্তিস্বার্থ আছে। সমিতি তাদের আন্দোলন শুরু করেছে ঠিক, কিন্তু আন্দোলনের ফসল ঘরে না তুলে কারও কারও ব্যক্তি এজেন্ডার কাজ করছে বলেই সাধারণ শিক্ষকরা পরবর্তীতে এই আন্দোলনে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। এদিকে শিক্ষক সমিতির মেয়াদ শেষ। তাদের উচিত সঠিক সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। তা না হলের সমিতির সাধারণ সদস্যরা শিক্ষক সমিতির বর্তমান নেতৃত্বের উপর অনাস্থা জানাবেন।
শিক্ষকরা আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের উচিত ১৯৭৩’র এক্ট সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে রাতের আঁধারে আইন অনুষদের যে বোর্ড করেছেন, সেটি বাতিল করা। এই বোর্ড বাতিল করে তা সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করে প্রভাষক পদের প্রার্থীদের আবেদনপত্রগুলো সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে পুনরায় আইন অনুষদের বোর্ড করা। তা না হলে আইন অনুষদের নিয়োগ অবৈধ হবে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এই নিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে শিক্ষক সমিতির সঙ্গে উপাচার্যের দ্বন্দ্বের মধ্যে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির তিন সদস্য প্রফেসর ড. রকিবা নবী, প্রফেসর ড. ফরিদুল আলম ও প্রফেসর ড. দানেশ মিয়া গত ২৪ জানুয়ারি সভাপতি বরাবর চিঠি দেন।
তারা চিঠিতে উল্লেখ করে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি কার্যকরী পরিষদ-২০২৩ খুব শিগগির একবছরের মেয়াদ পূর্তি করতে যাচ্ছে। গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে মোতাবেক এ বছর ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে নতুন কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
চিঠিতে তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান কার্যকরী পরিষদের পক্ষ থেকে আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাহী কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়নি এবং এ লক্ষ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়নি। বিধি মোতাবেক নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ২১ দিন সময় দিয়ে তফসিল ঘোষণা করতে হয়। সে অনুযায়ী তার আগে কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা ছিল। আমরা কার্যকরী পরিষদের সদস্যবৃন্দ যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের মূল্যবান ভোটে নির্বাচিত, সেক্ষেত্রে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।
তারা শিক্ষক সমিতির ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার স্বার্থে অতি দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন করে নিজেদের দায়বদ্ধতা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে আমরা মিটিং করে তফসিল ঘোষণা করার চেষ্টা করছি।