শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

‘ইসলামে সন্ত্রাসবাদ নেই’

| প্রকাশিতঃ ৯ মার্চ ২০২৪ | ৩:৪৯ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম : জিকরে শাহানশাহ ও মাইজভান্ডারি দর্শন শীর্ষক আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে বক্তারা বলেছেন, ধর্মের নামে সমাজে যখন অরাজকতা, খুনোখুনি সৃষ্টি হয়, তখন বাংলার জমিনে আবির্ভাব হয় বেলায়তে মোতলাকায়ে আহমদীর প্রবর্তক গাউসুল আজম শাহসূফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারি (ক.)। তাঁর প্রবর্তিত দর্শন অতি অল্প সময়ে দিশেহারা মানুষকে আল্লাহর দিকে ধাবিত করেছে।

শুক্রবার (৮ মার্চ) ফটিকছড়ির হারুয়ালছড়িতে শোকর-এ মওলা মঞ্জিলের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট মাইজভাণ্ডারী গবেষক ও লেখক, মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি, কেন্দ্রীয় পর্ষদের সদস্য মোহাম্মদ শাহেদ আলী চৌধুরী মাইজভাণ্ডারী।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ শাহেদ আলী চৌধুরী মাইজভাণ্ডারী বলেন, আল্লাহর অলীরা ঈমানের প্রতীক। মাইজভান্ডারি ত্বরিকা খিজিরিয়া ত্বরিকা। ধর্মকে এখন ঢাল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ধর্মের নামে যারা মানুষ হত্যা করে তাদের ‘ইসলাম’ রাসূল (সা.) এর ইসলাম নয়। তাদের ইসলাম গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারীর ইসলাম নয়। ইসলামে সন্ত্রাসবাদ নেই। ধর্মকে চিনতে চেষ্টা করতে হবে। মানুষকে পথ দেখানোর জন্যই মাইজভাণ্ডারী মিশন। ঈমানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখতে চাইলে মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকার শরণাপন্ন হতে হবে।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. মাওলানা জাফর উল্লাহ বলেন, আগে মানুষ তারপরে ধর্ম। আল্লাহর অলীদের আছে তিনটি গুণ। প্রথমত-তারা মাটির মতো নরম, দ্বিতীয়ত-তাদের অন্তর সমুদ্রের মতো বিশাল, তৃতীয়ত- সূর্যের মতো উদার। যার কাছে ফকির, বাদশা সমান তিনিই অলী হতে পারেন। খাজা গরিবে নেওয়াজ বলেছেন-বেলায়েতের নূর কাউকে তফাৎ করে না। মাইজভান্ডার ত্বরিকা সঠিকভাবে প্রচার হলে বিশ্ববাসী মাইজভাণ্ডার শরীফের দিকে ঝুঁকে পড়বে। সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত সমাজ গড়তে হলে সূফি ইমামদের পতাকা তলে আসতে হবে। ইশকে এলাহি বা সত্যকে যখন ধারণ করতে পারলে আল্লাহর ভয় আসবে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এসএম নেওয়াজ শাহরিয়ার আসিফ। স্বাগত বক্তব্য দেন সজীবুল হাসান চৌধুরী ও মাইজভাণ্ডারী দর্শন ভিত্তিক ছাত্র সংগঠন জ্যোতি ফোরামের সভাপতি জয়নাল আবেদিন তাওরাত এবং সংগঠনটির উপদেষ্টা মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতাল, চট্টগ্রামের মেডিক্যাল অফিসার ডা. পঞ্চানন দাশ গুপ্ত।

সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মাদ্রাসা- এ- গাউসুল আজম মাইজভান্ডারি আরবি বিভাগের প্রভাষক মাওলানা মুজিবুল হক, অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ এডিটরস ফোরামের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম তামিজী। এছাড়া অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন জাগ্রত ব্যবসায়ী ও জনতা, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ইলেক্ট্রিক্যাল এসোসিয়েশনের পরিচালক শিহাব রিফাত আলম। আলোচনা সভা শেষে মিলাদ পরিচালনা করেন মাহফিলের আহ্বায়ক সৈয়দ শফিউল আজিম সুমন। মাইজভাণ্ডারী সেমা ও কাউয়ালী পরিবেশন করেন বিশিষ্ট মাইজভাণ্ডারী কাওয়াল আব্দুল হান্নান হোসাইনী ও আবু আহমদ। এর আগে জ্যোতি ফোরামের উদ্যোগে বিপুল সংখ্যক কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। বিজ্ঞপ্তি