রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রামে বাংলা ভাইয়ের দুই সহযোগীসহ তিন জঙ্গি গ্রেফতার

| প্রকাশিতঃ ১৭ জুন ২০১৬ | ৫:৪০ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে চট্টগ্রামে সন্দেহভাজন তিন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দুইজন জেএমবি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম উরফে বাংলা ভাইয়ের সহযোগী ও একজন হিযবুত তাহরীরের সদস্য বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সীতাকুন্ড উপজেলার মসজিদ্দা দেলিপাড়া ও চট্টগ্রাম নগরীর শেরশাহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সীতাকুন্ড ও রাউজান থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

সীতাকুন্ডের কুমিরা থেকে গ্রেফতার জুলফিকার আলী (৪০) মসজিদ্দা দেলিপাড়া এলাকার মৃত জহুরুল হকের এবং মোঃ আলাউদ্দিন (৩১) একই এলাকার মৃত নুরুল আফছারের ছেলে। এই দুইজন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য। অন্যদিকে নগরীর শেরশাহ এলাকা থেকে গ্রেফতার রাউজানের ইয়ছিন নগর এলাকার বাসিন্দা মহিবুল আলম (৩০) হিযবুত তাহরীরের নেতা।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সীতাকুন্ড উপজেলা থেকে গ্রেফতার দুই জেএমবি সদস্য বাংলা ভাইয়ের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। এই দুইজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত জঙ্গি। এদের মধ্যে আলাউদ্দিন আট বছর সাজা ভোগ করে কয়েক বছর আগে জেল থেকে ছাড়া পায়। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৪ ও ২০০৯ সালে নগরীর পাঁচলাইশ, খুলশী, বাকলিয়া, হালিশহর থানায় সন্ত্রাসদমন ও বিস্ফোরক আইনে অন্তত ৮টি মামলা আছে বলে আমরা জেনেছি।

তিনি আরো জানান, গ্রেফতার হওয়া হিযবুত তাহরীরের কেন্দ্রীয় নেতা মহিবুল আলম রাউজানের বাসিন্দা হলেও তিনি নগরীর অক্সিজেন এলাকায় পরিবারসহ থাকতেন। নগরীর শেরশাহ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মহিবুল ২০১৩ সালে একবার গ্রেফতার হন। পরে জামিনে বের হয়ে ফের রাউজান ও নগরীতে হিযবুত তাহরীরের তৎপরতা শুরু করেন। মহিবুলকে গ্রেফতারের পর তার রাউজানের ইয়াছিন নগরের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৬৫০টি সরকারবিরোধী লিফলেট পাওয়া গেছে।

এদিকে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) রেজাউল মাসুদ জানান, জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১৬৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে পরোয়ানাভুক্ত আসামি আছেন ১৫১ জন, জামায়াতের একজন ও অন্যরা নিয়মিত মামলার আসামি।

প্রসঙ্গত গত ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীতে এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু খুন হওয়ার পর গত ১০ জুন থেকে সপ্তাহব্যাপী সারা দেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরু করে পুলিশ। এই অভিযানে চট্টগ্রাম জেলা ও নগরীতে দেড় হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হলেও জঙ্গি গ্রেফতার হচ্ছিল না। সর্বশেষ অভিযানের শেষদিন গত বৃহস্পতিবার রাতে সন্দেহভাজন তিন জঙ্গিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।