শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ, চাপ বাড়ছে ব্যবসায়ী ভোক্তা সবার

| প্রকাশিতঃ ১৬ মে ২০২৪ | ১০:০৭ পূর্বাহ্ন


ঢাকা : শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বেড়ে প্রায় ‍দ্বিগুণ হয়েছে। ছয় মাস আগেও দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজারে শীর্ষস্থানীয় একটি শিল্প গ্রুপের প্রতি মাসে ব্যাংক ঋণের সুদ আসত প্রায় ১২০ কোটি টাকা। কিন্তু ঋণের সুদহার বাড়ায় গত মাসে গ্রুপটিকে বাড়তি ৩০ কোটি টাকার সুদ গুনতে হয়েছে। সুদ ব্যয়ের পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার ও অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গ্রুপের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। গ্রুপটির বাড়তি ব্যয়ের এ বোঝা এসে চাপছে ভোক্তাদের ঘাড়ে।

দেশের ব্যাংকগুলোয় ভোগ্যপণ্য আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনের সঙ্গে সম্পৃক্ত গ্রুপটির ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণ রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির চাপে দেশের মানুষের ভোগ ব্যয় কমে গেছে। দাম বেশি হওয়ায় মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পণ্য কিনছে। এর প্রভাবে কোম্পানির বিক্রি প্রায় ২৫ শতাংশ পতন হয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংক ঋণের সুদহার বৃদ্ধির চাপ আর নিতে পারছি না। অনেক ঋণের কিস্তি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এখন পুনঃতফসিল করে ঋণ নিয়মিত রাখার চেষ্টা করছি।’

উদ্যোক্তারা বলছেন, শুধু ভোগ্যপণ্য নয়, দেশের সব ধরনের ব্যবসায় এখন এ চিত্রের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। ঋণের সুদহার বাড়ায় ব্যবসার ব্যয় বেড়েছে। বাড়তি এ ব্যয়ের চাপ পড়ছে ব্যবসায়ী-ভোক্তা সবার ওপরই। এতে আরো উসকে উঠছে দেশের বিরাজমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি।

দেশের বড়, মাঝারি কিংবা ছোট—সব খাতের ব্যবসায়ীরই বাড়তি সুদ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ বাড়ছে ব্যাংক খাতে। ব্যাংক নির্বাহীরা বলছেন, বাড়তি সুদের চাপে অনেক ভালো গ্রাহকও ঋণের কিস্তি ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারছেন না। আর ব্যবসায়ীরা জানান, সুদহার বৃদ্ধির চাপ তারা আর নিতে পারছেন না। গ্যাস-বিদ্যুতের বিল দ্বিগুণ হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে কর্মীদের বেতন-ভাতাসহ পরিচালন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। এ অবস্থায় ঋণের সুদহার দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে খেলাপি ঋণের চাপ আরো বহুগুণ বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে পণ্যের দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতিও বাড়বে।

ঋণের সুদ ও ডলারের বিনিময় হার নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘ঋণের সুদহার ব্যাংক আর গ্রাহকের সম্পর্কের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সুদহার বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ব্যয় বাড়লে দিন শেষে এর প্রভাব পণ্য ও ভোক্তার ওপর পড়বে। আমরা এ পরিস্থিতির সমাধান চাই। এ সমাধান নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আসতে হবে। এজন্যই আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছি। সুদহারের পাশাপাশি ডলারের বিনিয়ম হার নিয়েও আমরা বৈঠকে কথা বলব।’