
একুশে প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের সব বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম গতকাল বন্ধ ছিল। নিরাপত্তার শঙ্কায় চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দুপুরের পর কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলসহ অন্যান্য স্থলবন্দর এবং ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টম হাউসেও গতকাল কোনো পণ্য খালাস হয়নি।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা নিরাপত্তার শঙ্কায় গতকাল বেলা আড়াইটার পর অফিস ত্যাগ করেন, যার ফলে আমদানি পণ্যের শুল্কায়ন ও চালান প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ হয়ে যায়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম জানান, বেলা তিনটা থেকে পণ্য চালানের শুল্কায়ন বন্ধ রয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বন্দরের ভেতরে নিরাপত্তা থাকলেও বাইরের নিরাপত্তাহীনতার কারণে পণ্য খালাসের প্রবণতা নেই বললেই চলে।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাসের হার গতকাল কম ছিল। গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৩২৯ একক কনটেইনার পণ্য খালাস হয়েছে। ফলে বন্দর চত্বরে ৪৪ হাজারের বেশি কনটেইনার খালাসের অপেক্ষায় ছিল।
বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। জেটিতে ১৬টি জাহাজে কাজ চলছে এবং সাগরে ৫০টি পণ্যবাহী জাহাজ অপেক্ষা করছে। গতকাল ব্যবসায়ীরা এক হাজার কনটেইনার খালাসের জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।
নিরাপত্তার কারণে গতকাল বেনাপোল বন্দরে কোনো আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম হয়নি। সকালে বন্দর এলাকায় লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল লোককে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়, যার ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। পরে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) রেজাউল করিম জানান, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর আগামীকাল (বুধবার) থেকে বন্দরের সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হবে। পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা বাংলাদেশে ট্রাক পাঠাতে রাজি হয়েছে।
বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দুপুর পর্যন্ত বন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল এবং ভারত থেকে ১১৫টি পণ্যবোঝাই ট্রাক ও ৪৩টি গাড়ির চেসিস এসেছিল, আর বাংলাদেশ থেকে ৩৯টি পণ্যবোঝাই ট্রাক ভারতে গিয়েছিল।
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টম হাউসে গতকাল পণ্য খালাস বন্ধ ছিল। সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি পরিচয়ে একদল তরুণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দিয়ে বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের চেষ্টা করেন, যার ফলে কোনো কাজ হয়নি।
সোনামসজিদ, হিলি, ভোমরা, বিবিরবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দরেও গতকাল আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় বন্ধ ছিল। বন্দর কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার শঙ্কা এবং সড়কপথে অনিশ্চয়তার কারণে ভারত থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক আসেনি এবং আমদানিকারকরা পণ্য খালাস করেননি।
দেশের বিভিন্ন শুল্ক স্টেশনে নিরাপত্তার শঙ্কায় গতকাল দুপুরের পর কর্মকর্তারা কার্যালয় ত্যাগ করেন।