চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে খালেদা জিয়ার আগমন সামনে রেখেও একই মঞ্চে বসতে পারেননি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। এ উপলক্ষে পৃথক প্রস্তুতি ও সমন্বয় সভা করেছেন শীর্ষ এই দুই নেতা।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগর বিএনপির নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ানসহ সহ সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক পর্যায়ের কয়েকজন নেতা তাতে উপস্থিত ছিলেন। তবে দলের সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন এ সভায় উপস্থিত ছিলেন না।
অন্যদিকে শুক্রবার বিকেলে একই কার্যালয়ে সমন্বয় সভা করেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। সেখানে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ানসহ আবদুল্লাহ আল নোমান ও শাহাদাত অনুসারী নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দুই নেতাই পৃথক অনুষ্ঠানে ঐক্যবদ্ধভাবে খালেদা জিয়াকে বরণ করার উপর গুরুত্বারোপ করে পৃথক পৃথক প্রস্তুতির ডাক দেন।
রাজনীতি সচেতনদের অভিমত, দলীয় প্রধানকে সামনে রেখে একটি ঐক্যবদ্ধ সমন্বয় সভার আয়োজন যারা করতে পারেন না, তাদের মুখে ‘ঐক্যবদ্ধতার’ বুলি বড়ই বেমানান। নেতাদের এমনতর আহ্বান লোক দেখানো ছাড়া কিছুই নয়। সব ভেদাভেদ, প্রেস্ট্রিজজ্ঞান ভুলে এ ইস্যুতে শীর্ষ দুই নেতা এক প্লাটফরমে আসতে পারাটা ছিল ‘সময়ের’ দাবি।
রাজনীতিতে নোমানের শিষ্য খ্যাত আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেও ছিটকে পড়েন আবদুল্লাহ আল নোমান। অপেক্ষাকৃত নবীন ও জুনিয়রদের সাথে নোমানকে করা হয় দলের ভাইস চেয়ারম্যান। নোমানের এ পদায়নে তখন বিস্মিত হন রাজনৈতিক সচেতনদের পাশাপাশি খোদ বিএনপি পরিবারেরও অনেকেই। রাজনীতিতে এই ‘অবনমন’ মেনে নিতে কষ্ট হলেও নোমান রাজনীতির মাঠ ছেড়ে যাননি। কিছুদিন চুপচাপ থাকার পর একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে সরব হলেও চট্টগ্রামের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে একধরনের অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। আর এ অস্বস্তির কারণ হলো রাজনৈতিক প্রোটোকল বা পোর্টফোলিও। গত একবছরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাথে বড়জোর একটি কিংবা দুইটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় বর্ষীয়ান এই রাজনীতিককে।
আবদুল্লাহ আল নোমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রাজনীতিতে নোমানের জুনিয়র হলেও বর্তমান পোর্টফোলিও অনুযায়ী যে কোনো অনুষ্ঠানে নোমানের আগে খসরুর নামটি চলে আসে, যা নোমানের জন্য রীতিমতো অস্বস্তিকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পারতপক্ষে খসরুর সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে বসতে চান না নোমান।
অন্যদিকে খসরুর মাঝেও ভর করেছে ‘সিনিয়রটি’, ‘নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা’-এমন অহংবোধ। একদিকে অস্বস্তি, অন্যদিকে অহংবোধ এই দুইয়ের কারণে শীর্ষ এই দুই নেতা এখন দুই মেরুর বাসিন্দা। যারা খসরুর কাছে ডিপ্রাইভ তারা নোমানের সাথে, আর নোমানের কাছে ডিপ্রাইভ নেতারা আছেন খসরুর কাছে। এ ক্ষেত্রে নোমানের গ্রুপ বা পাল্লাই যে ভারি তা সর্বশেষ দেখা গেলো শুক্রবারের প্রস্তুতি সভায়। নগর বিএনপির সভাপতি ছাড়াও কেন্দ্রীয় দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান হাজির হয়েছেন নোমানের প্রস্তুতি সভায়। সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান আমীর খসরুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত হলেও নোমানের প্রস্তুতি সভায় তারাও হাজির ছিলেন।
খালেদা জিয়ার আগমনকে সামনে নিয়ে পৃথক সভা কেন, আমীর খসরুর সভাতে যাননি কেন- একুশে পত্রিকা’র এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি ব্রুনাই সফরে ছিলাম। তাই বৃহস্পতিবার খসরু ভাইয়ের প্রস্তুতি সভায় যোগ দিতে পারিনি। শুক্রবার দেশে ফিরেই নোমান ভাইসহ দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে আরেকটি প্রস্তুতি সভার আয়োজন করি। খসরু ভাইকেও তাতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু ঢাকায় অবস্থান করার কারণে তিনি যোগ দিতে পারেননি।
এ বিষয় জানতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি।