শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

বাংলাদেশ ব্যাংকে ডেপুটি গভর্নর পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ, এস আলম ঘনিষ্ঠদের নিয়ে অস্থিরতা

| প্রকাশিতঃ ২০ অগাস্ট ২০২৪ | ১১:২১ পূর্বাহ্ন


ঢাকা : বাংলাদেশ ব্যাংকে ডেপুটি গভর্নরের শূন্য পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া ঘিরে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম আলোচনায় আসার পর এ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা সততা, দক্ষতা এবং যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়োগ না হলে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সম্প্রতি এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার বিষয়টি কেন্দ্র করে ব্যাংকিং খাতে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সরকার পতনের পর গত ৬ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকে এস আলম ঘনিষ্ঠ গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরদের পদত্যাগের দাবিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার পদত্যাগ করেন এবং তার সঙ্গে ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান, খুরশীদ আলম, বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাস ও নীতি উপদেষ্টা আবু ফারাহ মো. নাছেরকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।

এ অবস্থায় সরকার বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দিয়েছে। আর ডেপুটি গভর্নরের শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে চার সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তাফা কামাল মুজেরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও সাবেক ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব বদরে মুনির ফেরদৌস।

সূত্র জানিয়েছে, সার্চ কমিটি ইতোমধ্যে কয়েকজনের নাম সুপারিশের জন্য একটি তালিকা প্রণয়ন করেছে, যেখানে এস আলম ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নির্বাহী পরিচালকের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই তালিকায় এস আলম ঘনিষ্ঠদের নাম থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “যদি এস আলম ঘনিষ্ঠ কেউ ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কারণ এস আলমের সাথে জড়িতদের রেখে ব্যাংকিং খাতকে কলঙ্কমুক্ত করা সম্ভব নয়।”

এদিকে, ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ বিভিন্ন ব্যাংক দখল করে নামে-বেনামে বিপুল অর্থ বের করেছেন। এ কাজে তাকে সহায়তা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক দুই গভর্নর ফজলে কবির ও আব্দুর রউফ তালুকদারসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। যদিও গভর্নর এবং ডেপুটি গভর্নররা পদত্যাগ করেছেন, এস আলম ঘনিষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক এবং অন্যান্য কর্মকর্তা এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বহাল আছেন এবং তারা ডেপুটি গভর্নর হওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে, এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৬ ব্যাংকের ঋণ বিতরণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা পরিস্থিতির জটিলতা আরও বাড়াচ্ছে।