
একুশে প্রতিবেদক : সাম্প্রতিক সময়ে দেশ থেকে আমদানি-রপ্তানির নামে এবং অনলাইনে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার পাচারের প্রবণতা বহুলাংশে কমেছে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং আমদানি ব্যয় হ্রাস পেয়েছে। বৈদেশিক অনুদানও বাড়তে শুরু করেছে, যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় আংশিক স্বস্তি ফিরেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বিগত দুই সপ্তাহ ধরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রয়েছে। এই স্থিতিশীলতার পেছনে রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক অনুদানের বৃদ্ধি মূল ভূমিকা পালন করেছে। প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, দেশের ডলারের সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাইকা, বিশ্বব্যাংক, এবং আইএমএফ থেকে অতিরিক্ত ডলার সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আমদানি-রপ্তানির সামগ্রিক পরিস্থিতি
২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় ছিল ৭ হাজার ৭৫ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরে কমে ৬ হাজার ৩২৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমদানি ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি রপ্তানি আয় রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন মাসে রপ্তানি আয় ছিল ৭১৩ কোটি ডলার, যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
রেমিট্যান্স ও অনুদানের প্রবাহ
রেমিট্যান্স প্রবাহও বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই মাসে ১৯১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, এবং চলতি আগস্টে এটি ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বৈদেশিক অনুদানের প্রবাহও সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বন্যা ও নতুন সরকারের প্রতি সহায়তার কারণে বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তা দিতে বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীরা আগ্রহ প্রকাশ করছে।
বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা
বৈদেশিক মুদ্রার সার্বিক স্থিতি হ্রাসের প্রবণতাও কমেছে। আগস্টে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেনি, বরং স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে রিজার্ভ রয়েছে ২০৪৮ কোটি ডলার, যা দিয়ে ৪ দশমিক ৪ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।
সার্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট
সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাণিজ্য ঘাটতি এবং চলতি হিসাবের ঘাটতিও কমেছে। গত অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৭৩৮ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরে কমে ২ হাজার ২৪৩ কোটি ডলারে নেমেছে। চলতি হিসাবে ঘাটতিও ১ হাজার ১৬৩ কোটি ডলার থেকে কমে ৬৫১ কোটি ডলারে এসেছে। ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রার আয় আরও বাড়লে এ ঘাটতি আরও কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার আশা
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ডলার সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ানো এবং বিভিন্ন খাতে খরচ কমানোয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।