শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

১০ ব্যাংকে ৩১ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি, ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা

| প্রকাশিতঃ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ৭:২৯ অপরাহ্ন


একুশে প্রতিবেদক : খেলাপি ঋণের ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতির রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে, যা গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ১০টি ব্যাংকে সঞ্চিতি ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকায়, যা ব্যাংক খাতের ভঙ্গুর অবস্থার প্রতিচ্ছবি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, ন্যাশনাল ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বিডিবিএল, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংকে এই ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

যদিও কিছু ব্যাংক অতিরিক্ত প্রভিশন বজায় রেখেছে, তবুও সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, যা গত ডিসেম্বরের তুলনায় ৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা বেশি।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের অভাব এবং ব্যাংকিং ব্যবসার ভিত্তি দুর্বল হওয়ার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। नियম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ঋণের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে প্রভিশন রাখতে হয়। এই প্রভিশন ঘাটতি মূলত ব্যাংকগুলোর উচ্চ হারে খেলাপি ঋণের ফল।

চলতি বছরের জুনে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের পরিমাণ ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা, যার মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ মিশনের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “সাধারণত প্রভিশন করলে লাভ কমে যায়, লাভ কমলে লভ্যাংশ দেওয়া যায় না। মালিকদের তো একটা লভ্যাংশের আগ্রহ থাকে। সে কারণেই প্রভিশন ঘাটতিটা হয়। সেটা করে পার পাওয়ার কথা না, যদি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা তাদের কাজটা করে।”

সামগ্রিকভাবে, ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতির এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতের সুশাসন ও স্থিতিশীলতার প্রতি গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরেছে।