রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

জোড়া খুনের ঘটনা প্রেমের জন্য নয়

| প্রকাশিতঃ ২২ জুন ২০১৬ | ১১:১৩ অপরাহ্ন

:: একুশে প্রতিবেদক ::

Screenshot_24চট্টগ্রাম: নগরীর হামজারবাগে জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। চাঁদার বিরোধ নিয়েই নির্মম এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার আদ্যপান্ত স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে এই মামলার মূল আসামি সজীব।

মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, থাই ফুডের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিল স্থানীয় চাঁদাবাজরা। তবে থাই ফুড কর্তৃপক্ষ চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এর জেরে সোমবার সন্ধ্যায় থাই ফুডের কারখানার কর্মচারী সজীবকে হামজারবাগস্থ তার বাসার কাছেই মারধর করে করিম নামের এক যুবকসহ আরো কয়েকজন সন্ত্রাসী। এরপর বাসা থেকে কাপড় পড়ে সজীব কারখানায় গিয়ে তাকে মারধরের কথা ম্যানেজার শিবলুকে জানায়। ম্যানেজার শিবলু বিষয়টি থাই ফুডের মালিককে মোবাইল ফোনে জানায়।

সূত্রটি অারো জানায়, এরপর মালিকের কথামত ম্যানেজার ওই এলাকায় ১৫-২০জন লোক জড়ো করে করিমসহ চাঁদাবাজদের পাল্টা মারধরের জন্য। সন্ধ্যার পর হামজারবাগের শান্তিনগর এলাকার থাই ফুডের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে চাঁদাবাজদের মুখোমুখি হয়। এসময় সেখানে সজীবও উপস্থিত থাকে। তাকে মারধরের প্রতিশোধ নিতে ঘটনার সময় সে ও এলোপাতাড়ি ছুরি চালায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে চাঁদাবাজদের পক্ষের দুইজন নিহতের ঘটনা ঘটে।

এসব ঘটনা স্বীকার করে বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আবদুল কাদেরের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সজীব।

মামলার তদন্তের সাথে যুক্ত সূত্রটি বলেন, ঘটনার পরপর স্থানীয়রা জানিয়েছিল থাই ফুড কারখানার কর্মচারী শারমিনের সঙ্গে সজিবের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে জোড়াখুনের ঘটনা ঘটে। পরে তদন্ত করে দেখা গেছে, মেয়েটির সাথে সজীবের প্রেমর সম্পর্ক ছিল, কিন্তু এ কারণে খুনের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতেই প্রেমের গুজব ছড়ানো হয়েছিল।

থাই ফুড কারখানার ম্যানেজারসহ জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে বলেও জানায় সূত্রটি।

এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে।

এর আগে সোমবার রাতে পাঁচলাইশের হামজারবাগের শান্তিনগর এলাকার দুই পক্ষের মারামারির পর মিজানুর রহমান ও মো. ইয়াছিন নামে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইয়াছিনের বাবা জহির উদ্দিন বাদি হয়ে গ্রেপ্তার সজিব, মহরম, ফারুক হোসেন ও সাগরসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করে।