শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

আইএমএফের চাপে ভ্যাট বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, রাজস্ব আয় কমার আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের

| প্রকাশিতঃ ৩ জানুয়ারী ২০২৫ | ৯:২১ অপরাহ্ন


ঢাকা: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপে ৬৫টি পণ্য ও সেবার উপর ভ্যাট-সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে সর্বত্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এই সিদ্ধান্ত রাজস্ব আয় বাড়ানোর পরিবর্তে উল্টো কমিয়ে আনতে পারে এবং অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, কর বৃদ্ধি পেলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামে কোনো প্রভাব পড়বে না।

তিনি বলেন, “আমাদের মূল্যস্ফীতির মূল সূচকগুলো হলো চাল, ডাল। আমরা যেসব জিনিসের উপর কর বাড়াচ্ছি, সেগুলো মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে খুবই কম গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও যোগ করেন, “পৃথিবীর কোনো দেশেই, এমনকি নেপাল, ভুটানেও, বাংলাদেশের মতো এত কম কর নেই।”

তবে ব্যবসায়ীরা এই বক্তব্যের সাথে একমত নন। তারা বলছেন, এই মুহূর্তে ভ্যাট হার বৃদ্ধি করা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে। এমতাবস্থায়, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, এলপি গ্যাস, গুঁড়া দুধ, বিস্কুট, আচার, টমেটো কেচাপ/সস, জুস, টিস্যু পেপার, ফলমূল, সাবান-ডিটারজেন্ট পাউডার, মিষ্টি, চপ্পলের উপর ভ্যাট হার বৃদ্ধি মানুষের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, অর্থবছরের শেষ সময়ে এসে ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।

ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরবরাহ পর্যায়ে ওষুধের ভ্যাট হার বৃদ্ধি এনবিআরের আইনগত ভুল সিদ্ধান্ত। এতে ওষুধের দাম বাড়তে পারে।

মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ করপোরেট ও রেগুলেটরি অফিসার সাহেদুল আলম বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে গত ৪ মাসে ভোক্তাদের মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা কমেছে। এই মুহূর্তে রাজস্ব আয় বাড়াতে গিয়ে মোবাইল সেবার উপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে।

দেশি ব্র্যান্ড টুয়েলভের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএর সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুল্লাহ হিল রাকিব বলেন, পোশাকের ওপর ভ্যাট বৃদ্ধি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এতে শিল্প, ভোক্তা ও সরকার সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, হোটেল-রেস্তোরাঁ শিল্পের ওপর ভ্যাট হার বাড়ানোয় তা শিল্পের ওপর ভয়ংকর প্রভাব ফেলবে।