চট্টগ্রাম: সাবেক সিনিয়র সচিব ও পাঠকপ্রিয় লেখক ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাসের সঠিক মূল্যায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তার স্ত্রী শেলী সেনগুপ্তা। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রণজিৎ বিশ্বাসের মরদেহ আনার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমি ৩৫ বছরের সাথীকে হারিয়েছি। দেশ হারিয়েছে একজন বড় মাপের লেখককে। শুদ্ধ বানান লেখা, শুদ্ধ ভাষা চর্চায় উনার চেয়ে ভালো কেউ পারেন না। তার শূন্যস্থান পূরণে কয়েক যুগ চলে যাবে। দেশ রণজিৎ বিশ্বাসের লেখার সঠিক ব্যবহার করতে পারেনি। এই জ্ঞানী প্রশাসকের মেধাটাকেও সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। সঠিক মূল্যায়ন হয়নি তার।
শেলী সেনগুপ্তা বলেন, আজ জনগণ তাকে যেভাবে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে তারা বুঝতে পারছে। কিন্তু অন্য জায়গা থেকে সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি অনেক কষ্ট নিয়ে চলে গেছেন। তিনি সবসময় বলতেন, আমার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রামের সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বিএফইউজের সহসভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার প্রমুখ।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া রণজিৎ কুমার বিশ্বাসের (৬০) মহদেহ সকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আনা হয়। এসময় জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন সরকারের পক্ষ থেকে শবদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সরকারি কর্মকর্তা, লেখক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী রাজনীতিক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ বরেণ্য এই ব্যক্তিকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তার একমাত্র কন্যা বিদেশ থেকে ফিরলে আগামী রোববার প্রয়াতের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে রণজিৎ কুমার বিশ্বাসের মরদেহটি রাখা হয়, কয়েকটি প্লাষ্টিকের চেয়ার জড়ো করে তার উপর। তা দেখে উপস্থিত লোকজনের অনেনকেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। প্রশ্ন উঠেছে, জীবিত থাকাকালে এ মানুষটির মূল্যায়ন হয়নি। মৃত্যুর পরও তার প্রতি এমন অবহেলা কেন?