শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ধস, ভাঙানোর হিড়িক

অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে নিট বিনিয়োগ ঋণাত্মক
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ | ৭:৫২ পূর্বাহ্ন


সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। চলতি অর্থবছরের (২০২৪-২৫) প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এ সময়ে মানুষ সঞ্চয়পত্র কেনার চেয়ে ভেঙেছে বেশি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আমানতের সুদহার বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ৩০ হাজার ১০৯ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। বিপরীতে, ৩২ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ভাঙানো হয়েছে। ফলে নিট বিনিয়োগ ঋণাত্মক হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাস থেকে সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ কমছে। একই সময়ে সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর প্রবণতাও বেড়েছে। ডিসেম্বর মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা, বিপরীতে ভাঙানো হয়েছে ৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। নভেম্বরে বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা এবং ভাঙানোর পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। অক্টোবরে বিক্রি হয় ৫ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা এবং ভাঙানো হয় ৯ হাজার ৮৩ কোটি টাকা।

অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর হার কম থাকায় নিট বিনিয়োগ ইতিবাচক ছিল। জুলাই মাসে নিট বিনিয়োগ ছিল ২ হাজার ৮৭ কোটি টাকা, আগস্টে ২ হাজার ৩৬ কোটি টাকা এবং সেপ্টেম্বরে ৪ হাজার ১০৯ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষ সংসার চালাতে সঞ্চয়পত্র ভেঙে ফেলছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির সঞ্চয় করার প্রবণতাও কমে গেছে। এছাড়া, ব্যাংক আমানত এবং সরকারি বিল-বন্ডের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় অনেকে সঞ্চয়পত্রের বদলে সেদিকে ঝুঁকছেন।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “মানুষের গড় আয় কমে গেছে। অনেকে জমানো টাকা ভেঙে দৈনন্দিন ব্যয় মেটাচ্ছেন। তাছাড়া, সম্পদশালীদের একাংশ যারা আগে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতেন, তারাও এখন আগ্রহ হারিয়েছেন।”

তবে, জানুয়ারি থেকে সরকার সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাড়িয়েছে। পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সীমাভেদে মুনাফার হার ১১.৭৬% থেকে বাড়িয়ে ১২.৫২% পর্যন্ত করা হয়েছে। সরকার আশা করছে, সুদহার বাড়ানোর ফলে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি আবার বাড়বে।

চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু, বিক্রির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।