
বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৫ কোটি ডলার। ডিসেম্বরে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত থাকলেও, জানুয়ারিতে আমদানির চাপ বাড়ায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, রোজার কারণে জানুয়ারিতে আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই মাসে দেশে ডলার আসার চেয়ে বেশি খরচ হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় পণ্য আমদানিতে ব্যয় ৩.৩০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮১১ কোটি ডলার। জানুয়ারিতে রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ৬১৩ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে।
অন্যদিকে, রপ্তানি আয় ১০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৬৩৬ কোটি ডলার হলেও, বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭৪ কোটি ডলার। গত ছয় মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৯৭৬ কোটি ডলার।
আর্থিক হিসাবের উদ্বৃত্তও কমেছে। সাত মাসে উদ্বৃত্ত ৮৫ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, যা ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল ১১৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সাধারণত, আর্থিক হিসাবে ঘাটতি তৈরি হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বিনিময় হারের ওপর চাপ বাড়ে।
সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যের ঘাটতিও কিছুটা বেড়েছে। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১৭ কোটি ডলার, যা ডিসেম্বরে ছিল ৪১ কোটি ২০ লাখ ডলার।
গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি ছিল ১ হাজার ১৬৩ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের আগস্টে চলতি হিসাব ইতিবাচক ধারায় ফিরলেও, সেপ্টেম্বরে আবার নেতিবাচক হয়ে যায়। ডিসেম্বরে উদ্বৃত্ত হলেও জানুয়ারিতে পুনরায় ঘাটতি দেখা দেয়। তবে, এই সময়ে প্রবাসী আয়ে ২৩.৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় চলতি হিসাবে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই ঘাটতি মেটাতে ঋণ করতে হতে পারে।