আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রথম দফার ভোটের বাকি আর মাত্র ১২ দিন। নির্বাচনী প্রচারে এত দিন শাসক-বিরোধী— দু’পক্ষের বিষয়ই ছিল গুজরাট অস্মিতা। কিন্তু, প্রথম দিন প্রচারে নেমেই নরেন্দ্র মোদী সেখানে জাতীয়তাবাদের দামামাটা বাজিয়ে দিলেন। গুজরাটে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে তুললেন সার্জিক্যাল স্ট্রাইক প্রসঙ্গ। পাশাপাশি একের পর এক বাক্যবাণে বিদ্ধ করলেন কংগ্রেসকে।
সোমবার সকালে কচ্ছের ‘আশাপুরা মাতা’ মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রচারাভিযান শুরু করেন। আগামী ৯ এবং ১৪ ডিসেম্বর গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে আগামী দু’সপ্তাহে তিনি ৩০টিরও বেশি নির্বাচনী সভা করবেন বলে বিজেপি সূত্রের খবর। এ দিন ভুজ ছাড়াও আরও দু’টি জায়গায় মোদীর নির্বাচনী সভা হয়েছে। একটি সৌরাষ্ট্রে, অন্যটি দক্ষিণ গুজরাটে।
এর আগে কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী গুজরাটে একাধিকবার প্রচারে এসেছেন। নানা বিষয়ে মোদীকে তিনি আক্রমণ করেছেন। এ দিন মোদী শুরুতেই রাহুলকে জবাব দিতে চেয়েছেন। গুজরাট নির্বাচনের আগে রাহুলকে তাঁর দল যে সভাপতি পদে নির্বাচিত করছে, তা নিয়েও মোদী কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, এ বারের লড়াই ‘উন্নয়ন বনাম পরিবারতন্ত্রের’ লড়াই। ‘চা-ওয়ালা’ কটাক্ষের জবাব দেন দিয়েছেন মোদী। সৌরাষ্ট্রের এক সভায় তিনি বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমি চা বিক্রি করতাম। কিন্তু, দেশ বিক্রি করিনি।’’
এর পরেই মোদী বলেন, ‘‘এ ভাবে আমার দারিদ্র্য নিয়ে কটাক্ষ করবেন না।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আসলে কংগ্রেস আমাকে অপছন্দ করে। কীভাবে একটা দল এতটা নিচে নামতে পারে? হ্যাঁ, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে আমার মতো একজন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এ জন্য কিছু গোপন করার নেই।’’
এ দিন মোদীর ভুজের জনসভায় বিপুল জনসমাগম হয়। সেখানে তিনি মুম্বই এবং উরি হামলা প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘২৬/১১-য় এবং উরিতে ভারতের উপর হামলা চালানো হয়েছিল। আপনারা দেখেছেন দু’টি ক্ষেত্রে ভারত কীভাবে তার জবাব দিয়েছে। আর সেটাই বুঝিয়ে দেয়, ওদের সরকার এবং আমাদের সরকারের পার্থক্য।’’ উচ্চারণ না করেও মোদী মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে ভারতীয় সেনার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা।
আসলে, মোদী জবাবটা দিতে চেয়েছেন রাহুল গান্ধীকে। কারণটা অবশ্য মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সাঈদ। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি হাফিজকে গৃহবন্দি করেছিল পাক সরকার। গত বুধবার তাকে মুক্তি দিয়েছে লাহোর হাইকোর্টের বিচারবিভাগীয় বোর্ড। শুক্রবার লাহোরের বাড়ি থেকে বাইরে পা দিয়েছেন এই জঙ্গি নেতা। তার পরেই রাহুল গান্ধী টুইট করে ব্যঙ্গ করেন, ‘‘নরেন্দ্র ভাই বাত নেহি বনি। টেরর মাস্টারমাইন্ড এখন ফ্রি। ‘হাগপ্লোম্যাসি’ ফেল করল। আরও আলিঙ্গনের প্রয়োজন রয়েছে।’’
এ দিন মোদী এই বার্তারও জবাব দিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাহুলের দেখা করা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। ভুজের জনসভায় মোদী গুজরাটি ভাষাতেই ভাষণ দিচ্ছিলেন। সেই ভাষণ ইংরেজি তর্জমা করে তাঁর টুইটারে পোস্ট করা হয়। সেখানে মোদী বলেন, ‘‘পাকিস্তানি আদালত এক জঙ্গিকে মুক্তি দিয়েছে, আর কংগ্রেস তা উদ্যাপন করছে। অবাক হয়েছিলাম, কেন! এই কংগ্রেসেই তো সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে আমাদের সেনার উপর বিশ্বাস রাখতে চায়নি। বরং তার থেকে বেশি বিশ্বাস করতে চেয়েছিল চীনের রাষ্ট্রদূতের উপর।’’
রাহুলের ‘হাগপ্লোম্যাসি’ জবাবে মোদী বলেন, ‘‘ডোকলামে যখন ৭০ দিন চীনা সেনার সঙ্গে সঙ্গে চোখে চোখ রেখে টক্কর দিচ্ছিল ভারতীয় সেনা, তখন চীনের রাষ্ট্রদূতকে আলিঙ্গন করেছিলেন কেন!’’
এই প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে গুজরাটে ভোটের প্রচারে নামলেন মোদী। এর আগের গুজরাটের একাধিক নির্বাচনে তিনি প্রচার করেছেন, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বা মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে। ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মোদী। সে বছর কেশুভাই পটেলকে সরিয়ে মোদীকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। ছ’মাসের মধ্যে মোদীকে মণিনগর থেকে উপনির্বাচনে জিতিয়ে আনা হয়েছিল। তার পর থেকে ২০১৪ অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত গুজরাটেরই মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি।