
বান্দরবান থেকে ফিরে : নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার, বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা প্রণয়নের পরই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শনিবার বিকেলে বান্দরবান জেলা জামায়াত আয়োজিত এক কর্মী ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান। সমাবেশটির প্রতিবেদন করেছেন মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, “যারা বাংলার নিরীহ ছাত্র জনতার উপর নির্বিচারে গুলি করে হত্যার পর লাশের স্তূপ করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে ছাত্র জনতাসহ নারী শিশুদের হত্যা করেছিল সেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও কাউয়া কাদেরদের (ওবায়দুল কাদের) গ্রেফতার করে বিচার দৃশ্যমান করতে হবে।”
বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট সময়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার “রাতের ভোট দিনে নিয়ে” এবং “আমি তুমি ডামি নির্বাচন করে” নির্বাচনকে “হাস্যকর তামাশায় পরিণত করে” দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল। তিনি বলেন, “২৪ এর জুলাই বিপ্লবে লক্ষ লক্ষ ছাত্র জনতা রাস্তায় নেমে এসে এই কর্তৃত্ববাদী, দুর্নীতিবাজ সরকারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছে।”
বান্দরবান জেলা জামায়াতের আমীর এস এম আব্দুস সালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল আওয়ালের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর ও সাবেক প্যানেল স্পিকার আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক ও অধ্যাপক নুরুল আমিন।
এছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা আমীর অধ্যাপক নুর আহমদ আনোয়ারী এবং রাঙ্গামাটি জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম।

মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের অফিস বন্ধ হয়েছে। ভারতে তাদের অফিস চালু হয়েছে। সেই ভারত থেকে বাংলাদেশ বিরোধী নানা ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ জামায়াত ইসলামীর দিকে তাকিয়ে আছে এবং দল সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে সর্বপ্রথম পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের মধ্যে অশান্তি শুরু করেছিল। এরপর থেকেই এখানে সন্ত্রাস আর চাদাঁবাজী চলমান।” এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আগামী নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী বান্দরবান জেলা নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আবুল কালামের মত সৎ ও যোগ্য নেতাকে সংসদে পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা তাজ, বান্দরবান আদর্শ শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হামেদ হাসান, বান্দরবান শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি অধ্যাপক ফারুক আহমদ, জেলা যুব ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, অফিস ও প্রচার সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি কলিমুল্লাহ, বান্দরবান পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা হারুনর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আমীর মাওলানা ওমর ফারুক, লামা উপজেলা আমীর কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম, বান্দরবান সদর উপজেলা আমীর অ্যাডভোকেট সোলায়মান, আলীকদম উপজেলা আমীর মাওলানা মাশূক এলাহী, রোয়াংছড়ি উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসাইন, রুমা উপজেলা সভাপতি খলিলুর রহমান এবং থানছি উপজেলা সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম।