রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত কোনো সম্পত্তি নেই : প্রেস সচিব

ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান নিয়ে অভিযোগের জবাব দিলেন প্রেস সচিব
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১২ মে ২০২৫ | ২:৪০ অপরাহ্ন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিজস্ব কোনো সম্পত্তি বা ব্যক্তিগত গাড়ি নেই বলে দাবি করেছেন তার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, “আমার জানা মতে, উনার ব্যক্তিগত কোনো সম্পত্তি নেই। তিনি নিজে একটা গাড়িও ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করেন না।”

সোমবার (১২ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘মিট দি রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. ইউনূস তার শাসন চলাকালে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিসহ বেশ কিছু সুবিধা নিয়েছেন— এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, “আপনারা দেখুন, এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ বা ভূমিকা আছে কিনা? আর যে-সব প্রতিষ্ঠানের কথা বলছেন সেগুলো কোনোটাই ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত কি-না? এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তার কোনো শেয়ার আছে? এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি কোনো সুবিধা পান? আসলে কি এগুলো ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান? গ্রামীণ নামটা না হয় ড. ইউনূস দিয়েছেন। তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের একটি শেয়ারেরও মালিক কি-না? উনার তো ব্যক্তিগত কোনো সম্পত্তি আছে কোথায়? কেউ দেখাতে পারবে?”

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, “আপনারা বের করে দেখান যে এসব প্রতিষ্ঠান পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা বা সরকার কোনো ভূমিকা রেখেছে। আমি সবাইকে এসব বিষয়ে তদন্ত করার অনুরোধ জানাই।”

গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি প্রসঙ্গে প্রেস সচিব জানান, ২০০৯ সালে এর জন্য আবেদন করা হয়েছিল। ওই সময়ে ড. ইউনূস সৌদি আরব গিয়েছিলেন, সেখানে সৌদি ও জার্মানির একটি হাসপাতাল চেইন তাকে নার্স এবং হাসপাতাল স্টাফ পাঠাতে বলেছিল। তারা বাংলাদেশের নিয়মিত কর্মী পাঠানো এজেন্সির মাধ্যমে নেবে না, কারণ ড. ইউনূসের মাধ্যমে নিলে খরচ সীমিত থাকবে। সেই আলোকে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু তারা অনুমোদন দেয়নি। এখন ২০২৪ সালের পর যদি লাইসেন্সের অনুমোদন পায় তাহলে দোষ কি? বাংলাদেশে এই রকম সাড়ে ৩ হাজার এজেন্সি আছে।

তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় করতে চেয়েছিলেন ২০১২-১৪ সালের মধ্যে। ২০১৪ সালে পূর্বাচলে তার ২-৩ শত বিঘা জমি কেনা হয়েছিল। তখন যতবারই বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কাছে আবেদন নিয়ে গিয়েছিলেন, ততবারই তারা বলেছিলেন আবেদন জমা দিয়েন না, অনুমতি দিতে পারবে না। এখন গত ৬ মাস অডিট করে বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, ড. ইউনূস পুরো বিশ্বের বিখ্যাত অধ্যাপকদের আনতে চেয়েছিলেন, যেটা বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হবে।