
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পঞ্চম সমাবর্তন আগামীকাল বুধবার (১৪ মে) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করা হবে। বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও তিনি এবারের সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, একক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমাবর্তন হতে যাচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ড. ইউনূসের প্রথম চট্টগ্রাম সফর। এ সফর এবং সমাবর্তন ঘিরে পুরো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সেজেছে নতুন রূপে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে গত এক মাস ধরে কাজ করা হচ্ছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমাবর্তনের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ৫ম সমাবর্তন আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, কমিটির সদস্য সচিব ও চবি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এনায়েত উল্যা পাটোয়ারী, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও ফটোগ্রাফি শাখার প্রশাসক ড. মো. শহীদুল হক প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এদিন প্রায় ২৩ হাজার সমাবর্তী সনদ নেবেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অতিথিসহ প্রায় ২৫ হাজার লোকের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া এদিন সমাবর্তীসহ প্রায় এক লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে চবি ক্যাম্পাসে।
সমাবর্তীরা নিজ নিজ বিভাগ/ইনস্টিটিউট থেকে সকাল ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে খাবার ও গিফট আইটেম (ব্যাগ, স্মরণিকা, কলম, পিন, ওয়ালেট ইত্যাদি) সংগ্রহ করতে পারবে। কনভোকেশন টুপিও গিফট হিসেবে বিবেচিত হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
শহর থেকে ক্যাম্পাসের দূরত্ব ২২ কিলোমিটার হওয়ায় সমাবর্তী ও অতিথিদের যাতায়াতের জন্য শাটল ট্রেনের পাশাপাশি ১০০ বাস সকাল ৬টা থেকে চলাচল শুরু করবে। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যতীত ক্যাম্পাসে আর কোনো যানবাহন প্রবেশ করবে না, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেইট থেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে শাটল বাসের ব্যবস্থা থাকবে।
৫ম সমাবর্তনে ৪২ জন পিএইচডি এবং ৩৩ জন এম. ফিল ডিগ্রিধারীকে সনদ দেওয়া হবে। এছাড়া ২২ হাজার ৫৮৬ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী কলা ও মানববিদ্যা (৪৯৮৮ জন), ব্যবসায় প্রশাসন (৪৫৯৩ জন) এবং সমাজ বিজ্ঞান (৪১৫৮ জন) অনুষদের।
এই সমাবর্তনের প্রাক্কলিত বাজেট প্রায় ১৪ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা আবেদন হিসেবে পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে প্যান্ডেল, সাজ-সজ্জা ও আসন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে।
এদিকে সমাবর্তন শুরু হওয়ার আগেই ক্যাম্পাসে কনভোকিদের আনন্দ উচ্ছ্বাস শুরু হয়ে গেছে। গতকাল সোমবার থেকে কনভোকিদের অগ্রিম গাউন, হুড ও টুপি দেওয়া শুরু হয়েছে। গাউন নেওয়ার জন্য প্রতিটি বিভাগে কনভোকিরা ভিড় করছেন। প্রিয় আঙ্গিনায় উপস্থিত হয়েছেন হাজারো গ্র্যাজুয়েট। দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের দেখা পেয়ে উচ্ছ্বসিত তারা। কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ ব্যস্ত আড্ডায়, কারও গল্পের সঙ্গী বন্ধু-বান্ধব, পিতা-মাতা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস গ্র্যাজুয়েটদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে গ্র্যাজুয়েটদের পদচারণায়। মাথায় কালো টুপি, গায়ে গাউন আর হুড পরে দল বেঁধে ছোটাছুটি করছেন প্রিয় আঙ্গিনাজুড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ, শহীদ মিনার, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী, ক্যাম্পাসের আকর্ষণীয় স্থানগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।