
কক্সবাজারের চকরিয়ায় নির্বিচারে পাহাড় কাটার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চকরিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুল কবির মঙ্গলবার (২৭ মে) এই আদেশ দেন। আদেশে কক্সবাজার জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপারকে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে চকরিয়ার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সচিত্র প্রতিবেদন আদালতের নজরে এসেছে। এসব প্রতিবেদনে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি এবং পরিবেশ ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিশেষত, “প্রথম আলো” পত্রিকায় “কক্সবাজারের চকরিয়ায় ইজারা নিয়ে সংরক্ষিত বন উজাড়” এবং “সমকাল” পত্রিকায় “চকরিয়ায় বালুর ইজারা নিয়ে কাটা হচ্ছে পাহাড়” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ আদালত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছেন।
বিচারক আদেশে বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। পাহাড় কাটা একটি ফৌজদারি অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ বা ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান তৎপরতার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে আদালত পিবিআই, কক্সবাজার জেলা ইউনিট প্রধানকে (পুলিশ সুপার) নিম্নোক্ত তিনটি বিষয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধানপূর্বক পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন:
১. কোন কোন ব্যক্তি পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের সহযোগী ও মদদদাতা কারা?
২. অপরাধ বা অপরাধসমূহ কোন কোন জায়গায় এবং কোন কোন তারিখে ও সময়ে সংঘটিত হয়েছে?
৩. অপরাধ বা অপরাধ সংঘটনের নেপথ্যে কে বা কারা জড়িত এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় কী?
আদালত আদেশে আরও উল্লেখ করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তের স্বার্থে যে কোনো ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে তলব করতে পারবেন এবং তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করতে পারবেন। এছাড়া, সকল সাক্ষীর নিকট থেকে গৃহীত জবানবন্দি ও অন্যান্য গৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ডিজিটাল সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
আদালতের এই স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ চকরিয়ায় পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশকর্মীরা প্রত্যাশা করছেন।