শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাল থেকে ঈদ ও গ্রীষ্মের ছুটি, মাদ্রাসায় দীর্ঘতম অবকাশ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২ জুন ২০২৫ | ৩:০৩ অপরাহ্ন


আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ জুন) থেকে দেশের সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হচ্ছে। তবে এই ছুটির মেয়াদে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে; কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ২৫ দিনের দীর্ঘ ছুটি পেলেও অন্য স্তরে এই অবকাশ মাত্র ১০ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। সরকারি শিক্ষাপঞ্জি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের ছুটি শুরু হবে ৩ জুন থেকে এবং পাঠদান পুনরায় শুরু হবে ২৩ জুন। এর ফলে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা টানা ২১ দিনের ছুটি পাচ্ছেন। মাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়গুলোতে অবশ্য ছুটি শুরু হয়েছে গত ১ জুন থেকে, যা চলবে ১৯ জুন পর্যন্ত। এরপর ২০ ও ২১ জুন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে ২২ জুন থেকে পুনরায় ক্লাস শুরু হবে, ফলে এই স্তরের শিক্ষার্থীরা মোট ২৩ দিনের ছুটি উপভোগ করবেন।

অন্যদিকে, সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতে এবার গ্রীষ্মকালীন অবকাশ অন্তর্ভুক্ত না থাকায় শুধুমাত্র ঈদের ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ছুটি ৩ জুন শুরু হয়ে ১২ জুন শেষ হবে, যার ফলে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাত্র ১০ দিনের ছুটি পাচ্ছেন।

এবারের অবকাশে সবচেয়ে দীর্ঘ ছুটি মিলছে মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। সরকারি আলিয়া মাদরাসাসহ বেসরকারি ইবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের মাদরাসাগুলোতে গত ১ জুন থেকে ছুটি শুরু হয়েছে এবং তা চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। ২৬ জুন থেকে মাদরাসাগুলোতে পুনরায় পাঠদান শুরু হবে, এতে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ২৫ দিনের ছুটি পাচ্ছেন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ছুটি ১ জুন থেকে শুরু হয়ে ১৯ জুন পর্যন্ত চলবে এবং সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ২২ জুন থেকে ক্লাস শুরু হবে, ফলে সেখানে মোট ছুটি দাঁড়াচ্ছে ২১ দিন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জির আলোকেই এবারের এই ছুটির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বহুমাত্রিক হওয়ায় ছুটির সময়েও বিভিন্ন স্তরের মধ্যে কিছুটা বৈচিত্র্য রাখা হয়েছে। তবে তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সকল স্তরের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যেন ঈদের আনন্দ ও গ্রীষ্মের অবকাশ যথাযথভাবে উপভোগ করতে পারেন, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে।