রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

দেশে ৫১% মেয়ের বিয়ে ১৮-র আগে

বাল্যবিবাহ-মাতৃমৃত্যু এখনো বড় চ্যালেঞ্জ, বলছে ইউএনএফপিএ
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১২ জুন ২০২৫ | ১০:০০ পূর্বাহ্ন


দেশে ৫১ শতাংশ মেয়ের বিয়ে ১৮ বছর হওয়ার আগেই হয়ে যাচ্ছে এবং ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রতি এক হাজার কিশোরীর মধ্যে ৭১ জনই মা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের জনসংখ্যাবিষয়ক সংস্থা ইউএনএফপিএ।

মঙ্গলবার প্রকাশিত সংস্থাটির বার্ষিক ‘বৈশ্বিক জনসংখ্যা পরিস্থিতি ২০২৫’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও প্রজনন স্বাস্থ্য খাতের এই চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাতৃ ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। প্রয়োজনের সময় দেশের ১০ শতাংশ দম্পতি জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পায় না, যা অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়ায়। সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় ৩০ শতাংশ নারী দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তা পান না, অর্থাৎ তাদের প্রসব অদক্ষ কারও হাতে সম্পন্ন হয়।

ইউএনএফপিএ’র হিসাবে, বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার এখনো উদ্বেগজনক। প্রতি এক লাখ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে ১১৫ জন মায়ের মৃত্যু হচ্ছে। এছাড়া, দেশের ২৩ শতাংশ নারী গত এক বছরের মধ্যে তার স্বামীর হাতে শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তবে এসব চ্যালেঞ্জের বিপরীতে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতির চিত্রও রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মোট প্রজনন হার এখন ২ দশমিক ১, যা ‘প্রতিস্থাপন পর্যায়’ হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ, এই হার বজায় থাকলে দেশের জনসংখ্যা ভবিষ্যতে স্থিতিশীল থাকবে। ৫০ বছর আগে এই হার ছিল গড়ে ৫-এর বেশি।

দেশের মানুষের গড় আয়ুও বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি। ইউএনএফপিএ’র তথ্যমতে, বাংলাদেশের পুরুষের গড় আয়ু ৭৪ বছর এবং নারীর ৭৭ বছর।

প্রতিবেদনে দেশের জনমিতিক পরিবর্তনের দিকেও আলোকপাত করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৭ শতাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বছরের বেশি, যাদের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ২৩ লাখ। এই বয়স্ক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনে অন্যের ওপর নির্ভরশীল।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, “দেশে মোট প্রজনন হার কমে আসা একটি দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য। কিন্তু প্রতিবছর যে ২০ থেকে ২২ লাখ তরুণ-তরুণী শ্রমবাজারে প্রবেশের উপযুক্ত হচ্ছে, তাদের খুব কম অংশকেই আমরা কাজ দিতে পারছি। সমৃদ্ধির পথে হাঁটতে হলে যুব জনগোষ্ঠীর মানসম্পন্ন শিক্ষা, দক্ষতা ও সুস্বাস্থ্যে জোর দেওয়া জরুরি।”