রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

সরকারের আহ্বানেও থামছে না মব ভায়োলেন্স, বাড়ছে উদ্বেগ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৪ জুলাই ২০২৫ | ১২:২৩ অপরাহ্ন

সাবেক সরকারের পতনের প্রায় এক বছর পরও দেশজুড়ে গণপিটুনি ও হামলা-সহিংসতার ঘটনা কমছে না, যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণসহিংসতায় অন্তত ১৭৪ জন নিহত হয়েছেন।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার কুমিল্লার মুরাদনগরে একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রামে থানা থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের কড়াইবাড়ি গ্রামে রুবি বেগম (৫৮), তার ছেলে রাসেল (৩৫) ও মেয়ে জোনাকি আক্তারকে (২৭) পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় রুবির আরেক মেয়ে রুমা আক্তার গুরুতর আহত হন।

নিহতদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে নিহত রাসেলের স্ত্রী মোসাম্মৎ মীম দাবি করেন, মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় আকুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান শিমুল বিল্লাল জানান, মোবাইল ছিনতাইয়ের একটি বিষয়ে তিনি জিজ্ঞেস করতে গেলে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা তার ও একজন ইউপি সদস্যের ওপর হামলা চালান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে তাদের ওপর গণপিটুনি দেয়।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার নাজির আহম্মদ খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, আইন হাতে তুলে নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অভিযুক্তদের শনাক্তে অভিযান শুরু হয়েছে।

বুধবার রাতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় হামলা চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীরা থানার ওসিসহ ৩০ জনকে আহত করে এবং ওসির কক্ষসহ চারটি কক্ষ ভাঙচুর ও সরকারি মালামাল লুট করে। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পাটগ্রাম থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বালুমহালের ইজারাদারের লোকজন অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের সময় আটক দুই ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয়। এর জেরেই ইজারাদার ও সাবেক বিএনপি নেতা চপল হোসেনের নেতৃত্বে থানায় হামলা চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চপল হোসেনকে প্রধান আসামি করে ৩২ জনের নামে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছে।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং পটিয়ায় ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রামের ষোলশহরে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের শীর্ষ নেতা খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, “পুলিশ বাহিনীতে দৃশ্যমান সংস্কার প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ আমলে থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সবাইকে বরখাস্ত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”

এনসিপির পক্ষ থেকে চার দফা দাবি পেশ করা হয়, যার মধ্যে পটিয়ার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ওসিকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও বিচার এবং চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারকে অপসারণের দাবিও রয়েছে।