:: একুশে প্রতিবেদক ::
চট্টগ্রাম: পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা রহস্য এখনো পরিস্কার করেনি পুলিশ। এই মামলার তদন্তে পুলিশ যে এখনো অন্ধকারে- সে কথা মানতেও রাজী নন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। অথচ খুনের সাথে যুক্ত তিনজনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে দুইজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এমনকি মামলার বাদি বাবুল আক্তারকেও টানা ১৫ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তে অগ্রগতির এসেছে বলেও পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। এরপরও হত্যা রহস্য সঠিকভাবে উঠে আসা নিয়ে নানা সন্দেহ দানা বাঁধছে জনমনে। তাহলে কি অপ্রকাশিতই থেকে যাবে ‘নির্দেশদাতা’র নাম?
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, হত্য রহস্য উদঘাটন নিয়ে আমরা অন্ধকারে আছি- এমন ধারণাটা ঠিক না। আসামিদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে- তা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। বলতে পারেন, আমরা রহস্য উন্মোচনের দ্বারপ্রান্তে আছি। এখন যেসব তথ্য আমাদের কাছে আছে, তা সর্বসাধারণকে জানানো বিষয় নয়। তদন্ত পুরোপুরি শেষ হলে সবকিছু জানা যাবে।
এদিকে গত রোববার রাতে চট্টগ্রাম আদালতে ওয়াসিম ও আনোয়ার নামে দুই আসামির জবানবন্দি দিয়েছে। এতে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছে এই দুই আসামি। এছাড়া কার মাধ্যমে তারা খুনের চুক্তি পেয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য দিলেও জবানবন্দিতে সেই পরিকল্পনাকারীর নাম নেই। আসামিদের দাবি, এ হত্যার মাধ্যমে মুছা নামে এক ব্যক্তি তাদেরকে পাঁচ-সাত লাখ দিবে বলেছিল। সেই মুছাকে গত ২১ জুন পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে তার পরিবার; এরপর থেকে মুছার অবস্থানের বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
এখন মুছা যদি ‘নির্দেশদাতা’র নাম বলার আগেই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যায়, তাহলে মামলা তদন্ত এখানেই থেমে যাবে। এতে দুই আসামির জবানবন্দির পরও রহস্যজট কাটবে না, বরং আরো আরো ঘনীভ’ত হবে। সবমিলিয়ে তদন্তের গতিপথ নিয়ে এখন জনমনে সৃষ্টি হচ্ছে সন্দেহ। এমনকি মিতু হত্যার পর থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের গরমিল এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণেও চলছে সমালোচনা।
এদিকে মামলার বাদি বাবুল আক্তারকে গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত টানা ১৫ ঘন্টা ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ নিয়ে জনমনে নানা সন্দেহ ছড়িয়ে পড়ছে। বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় যে সব আসামিদের মুখোমুখি করা হয়েছিল, তাদের পরিচয় প্রকাশ করেননি পুলিশ। তাদের কাউকে আদালতে সোপর্দও করা হয়নি। গত শনিবার বিকেলে নগরীর বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম ও রাতে ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে আনোয়ার হোসেন এবং গত মঙ্গলবার রাতে মুছাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত বাবুল আক্তারের মুখোমুখি করা আটক সন্দেহভাজনরা কোথায়? সেসময় বাবুল আক্তারের উপস্থিতিতে আসামিরা কি বলেছিল- তা নিয়ে রহস্যের অন্ত নেই। তেমনি বাবুল আক্তারকে পুলিশের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল কিনা- তা নিয়েও নানা কথা ছড়াচ্ছে চারদিকে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, মিতু হত্যায় বাবুল আক্তারের সংশ্লিষ্টতা আছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এনিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। কিন্তু স্ত্রীকে সরিয়ে দিলে বাবুলের কী লাভ হবে সে বিষয়টি এখনো পরিস্কার নয়। অভিযোগের তির আসার পর থেকে বাবুল চুপ আছেন। গত রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত কয়েক দফায় তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা যায়নি।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, কোন কারণে অভিযোগ শুনে বাবুল চুপ হয়ে গেছেন নাকি তাকে চুপ করে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দায়িত্বশীল কেউ কথা বলতে রাজি হননি। বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহারকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।