শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

রাজনৈতিক হীন স্বার্থে বন্দর নিয়ে অসত্য তথ্য : মন্ত্রী শাজাহান খান

| প্রকাশিতঃ ১০ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৭:৫৮ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়োগ নিয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে অভিযোগ করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, এর পেছনে রাজনৈতিক হীন স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বন্দর উপদেষ্টা কমিটির ১২ তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব তিনি এ কথা বলেন।

সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কোন অস্থিরতা নেই। শ্রমিক সংগঠনগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে। বার্থ অপারেটর ও বন্দর সংশ্লিষ্টরাও আমাদেরকে সহযোগিতা করছেন। এরপরও বন্দর নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এই বন্দরকে কারা, কী কারণে অস্থিতিশীল করতে চাইছে সেটা আজকে খতিয়ে দেখার বিষয়। নিয়োহ বিষয়ে যে ধরনের কথাবার্তা এখানে হলো, এই কথাগুলো একেবারে অপ্রত্যাশিত। আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, বন্দর পরিচালনা করতে গিয়ে আমি কোন স্বজনপ্রীতি, অবৈধ সুযোগ-সুবিধা কাউকেও দিচ্ছি না, নিজেও নিচ্ছি না।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য সহ সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আমরা বন্দরের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এরপরও অসত্য, মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়া হয়েছে, এসব নিয়ে আবার নিউজও হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ৯২জন লস্কর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারমধ্যে আমার নিজ জেলা মাদারীপুর থেকে ৯০জন ও চট্টগ্রাম থেকে ২ জন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আসিফ নজরুলের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকও স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আমি মামলা করেছি এজন্য। আসলে লস্কর নিয়োগ দেয়া হয়েছে ২৬টি জেলার ৮৫ জন ব্যাক্তিকে।

শাজাহান খান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ২০১০ সাল থেকে ১১৫টি পদে এক হাজার ৯৪৮ জনের চাকরি দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। ঢাকা বিভাগে ২১১জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫জন, চট্টগ্রাম বিভাগ ১ হাজার ৩০৫জন, বৃহত্তর চট্টগ্রামে ৭৭৯জন, রাজশাহী বিভাগে ১০৯জন, রংপুর বিভাগে ৩৬জন, খুলনা বিভাগে ১০১জন, বরিশাল বিভাগে ১২৩জন, সিলেট বিভাগে ১৮জন চাকরি পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের আগে ১২ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কোন ধরনের নিয়োগ ছিল না। কাউকে চাকরি দেয়া হয়নি। আমি এসে দেখলাম, কয়েক হাজার শুন্যপদ রয়েছে। ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। শুধু যন্ত্রপাতি থাকলে তো হবে না, জনবলও থাকতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, চাকরি নিয়ে যারা বিভ্রান্তিকর কথা বলছেন, তাদেরকে বলবো, অসত্য তথ্য দেবেন না। জনগণকে সত্য তথ্য দিন। আমাদের ভুল থাকলে অবশ্যই সমালোচনা করার অধিকার আছে। আমি সমালোচনাকে গ্রহণ করতে চাই। কিন্তু আমি মিথ্যাচারকে গ্রহণ করতে চাই না। আমি মিথ্যাচারকে ঘৃণা করি, প্রত্যাখ্যান করি। আমি অসত্যের কাছে কখনো মাথা নত করিনি।

মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, অফিসিয়ালি চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩০ বছর বয়স হলেও এ বন্দরের ইতিহাস রয়েছে হাজার বছরের। বন্দর ধীরে ধীরে আজকের এই অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বন্দরের উন্নতি হয়েছে। এই উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নতি সারা বিশ্বে সমাদৃত হয়েছে। বর্তমান সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন সার বিশ্বের বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৯৮তম। ২০১৫ সালে আমরা ১২ ধাপ এগিয়ে ৮৬ তম স্থানে এসেছিলাম। ২০১৬ সালে আমরা ১০ ধাপ এগিয়ে ৭৬ তম স্থানে আসি। তৃতীয় দফায় আমরা ৭১তম স্থানে উন্নীত হয়েছি। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আমরা ২৭ ধাপ এগিয়েছি। বর্তমান সরকারের ৯ বছরে হিসেব করলে প্রতিবছর আমরা ৩ ধাপ করে এগিয়েছি। চট্টগ্রাম বন্দরের কাক্সিক্ষত অগ্রযাত্রা হয়েছে- এটাই প্রমাণ।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, বন্দরের কন্টেইনার আনা নেয়ার ক্ষেত্রে লং ভেহিকেলগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। এতে যানজট তৈরী হয়। রাস্তাও বিনষ্ট হচ্ছে। এজন্য কন্টেইনার ইয়ার্ডগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিতে আমি অনুরোধ করবো। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে মহেশখালের উপর একটি অস্থায়ী বাধ নির্মাণ করা হয়েছিল, এর ফলে বাধের একটি অংশের মানুষজন দীর্ঘদিন উপকৃত হয়েছিল। কিন্তু অতি বর্ষণের কারণে কিছু মানুষ ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে, আমরাও বাধ্য হয়েছি এটি অপসারণ করতে। বাধের বিরুদ্ধে যারা ছিলেন তারাই এখন বলছে, বাধ অপসারণ করাটা ঠিক ছিল না। এখনও আগ্রাবাদ-হালিশহর এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, মহেশখালের উপর যাতে একটা স্লুইচ গেট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এটির অগ্রগতি কী আমরা জানি না।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, শামসুল হক চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.আবদুস সামাদ, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান, নৌ পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহুবুল আলম, বিজিএমইএ এর প্রথম সহসভাপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান, চেম্বার পরিচালক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম আকতার হোসেন, চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।