
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে স্বপ্নের রেল চলাচল শুরু হলেও চকরিয়া উপজেলায় স্থাপিত নতুন তিনটি রেল স্টেশন সন্ধ্যা নামার পরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং রেলওয়ে পুলিশের কার্যক্রম না থাকায় স্টেশনগুলো অনিরাপদ হয়ে উঠেছে, যেখানে প্রায়ই সশস্ত্র ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়ছেন যাত্রীরা।
২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর কক্সবাজারে আইকনিক স্টেশন উদ্বোধনের মাধ্যমে পর্যটন নগরীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে চকরিয়া উপজেলায় হারবাং, সাহারবিল ও ডুলাহাজারা—এই তিনটি স্টেশন নির্মাণ করা হয়।
স্টেশনগুলো চালু হওয়ায় কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়াসহ পার্শ্ববর্তী বান্দরবান জেলার লামা, আলীকদমের মতো উপজেলার যাত্রীদের যাতায়াত সহজ হয়েছে।
কিন্তু ছয় মাস না যেতেই স্টেশনগুলোতে, বিশেষ করে সাহারবিল স্টেশনে নিরাপত্তা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সাহারবিল স্টেশনটি চকরিয়া-মহেশখালী সড়কের পাশে এবং মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের সংযোগ সড়কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে যাত্রীর চাপ দিন দিন বাড়ছে, আর এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে অপরাধী চক্র।
এ বিষয়ে সাহারবিল রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ফরহাদ চৌধুরী বলেন, “স্টেশন চালুর এক মাসের মধ্যেই এগুলো অপরাধীদের আস্তানায় পরিণত হতে থাকে। পর্যাপ্ত লাইটিং ও রেলওয়ে পুলিশের নিরাপত্তা না থাকায় অপেক্ষমাণ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত ডাকাত-ছিনতাইকারীর খপ্পড়ে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন, এমনকি শারীরিকভাবেও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন।”
তিনি জানান, স্টেশনটিতে যাত্রীদের বিশ্রামাগার থাকলেও বসার ব্যবস্থা বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই। সার্বিক পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “রেল স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রেলওয়ে পুলিশের। কিন্তু এখানে রেল পুলিশ নিয়োগ না দেওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য চকরিয়া থানা পুলিশকে প্রতিদিন টহল দিতে হচ্ছে।”
এই প্রসঙ্গে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, “যাত্রী পরিবহন চালু হলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, যা খুবই দুঃখজনক। স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত লাইটিং এবং নিয়মিত রেলওয়ে পুলিশের টহল জোরদার করা জরুরি। রেল কর্তৃপক্ষ চাইলে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।”