শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

রামুর সামাজিক বনায়ন: ৩৪০ গাছ ‘উধাও’, বন কর্মকর্তার দায়সারা জবাব

মো. সাইদুজ্জামান সাঈদ | প্রকাশিতঃ ১১ অগাস্ট ২০২৫ | ৩:১৭ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের রামুতে বাঘখালী রেঞ্জের একটি সামাজিক বনায়ন প্রকল্প থেকে ৩৪০টি গাছ উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে বন বিভাগের স্থানীয় এক কর্মকর্তা দিয়েছেন দায়সারা জবাব।

উপজেলার কচ্ছপিয়া বিটের হরিয়ার বিলে ২০০৩-০৪ সালে সৃজিত ওই সামাজিক বনায়নের অবিক্রিত ১৬টি লট থেকে গাছগুলো কেটে নেওয়া হয়েছে বলে উপকারভোগীরা জানিয়েছেন।

তারা বলছেন, দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া ২৪টি লটের ঠিকাদারই অবশিষ্ট গাছগুলো কেটে নিয়ে গেছে। এ নিয়ে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

বনায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, “আমি ও সভাপতি মিলে বহুবার স্থানীয় বিট কর্মকর্তাকে গাছ কাটার বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কচ্ছপিয়া বিটের দায়িত্বে থাকা বন কর্মকর্তা আব্দুর সাত্তার গাছ কাটার ঘটনা স্বীকার করেন।

তবে এর দায় নিতে নারাজ তিনি। আব্দুর সাত্তার বলেন, “সামাজিক বনায়ন রক্ষা করা আমার দায়িত্ব নয়, এটা উপকারভোগীদের কাজ। আমার অফিস অনেক দূরে, আমি কীভাবে গাছ কাটা ঠেকাব?”

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে হরিয়ার বিলের ৫০ হেক্টর সামাজিক বনায়ন এলাকার ৪০টি লটের গাছ বিক্রির জন্য চিহ্নিত করা হয়। পরে ২৪টি লট দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হলেও বিতর্কের কারণে ১৬টি লট অবিক্রিত থেকে যায়। এসব লটে ৬৪০টি আকাশমণি গাছ ছিল, যার মধ্যে ৩৪০টিই এখন নেই।

বাঘখালী রেঞ্জের বর্তমান কর্মকর্তা মো. ফজল কাদের বলেন, “দরপত্রের বিষয়টি আমার আগের রেঞ্জ কর্মকর্তার সময়ে হয়েছে। বিষয়টি আমাকে খোঁজ নিতে হবে। আগামী দুই দিনের মধ্যে আমি সরেজমিনে যাব, তারপর বিস্তারিত বলা যাবে।”

এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মারুফ হোসেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খতিয়ে দেখা হবে।”

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, সামাজিক বনায়ন থেকে এভাবে গাছ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।