শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচন নিয়ে নতুন মেরুকরণ: জামায়াত-এনসিপির শর্তে চাপে বিএনপি

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৪ অগাস্ট ২০২৫ | ১:৫৭ অপরাহ্ন


আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতা হলেও নির্বাচনপূর্ব সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যা নির্বাচন নিয়ে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ও শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

বিএনপি চায়, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর নির্বাচিত সংসদ সংবিধানসহ অন্যান্য সংস্কারের দায়িত্ব নেবে। অন্যদিকে, জামায়াত ও এনসিপির দাবি, ‘জুলাই সনদ’ নামে পরিচিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো নির্বাচনের আগেই বাস্তবায়ন করতে হবে। জামায়াত ভোটের আনুপাতিক হার (পিআর) পদ্ধতি চালুর দাবিকেও সামনে আনছে।

এই মতপার্থক্যের মূলে রয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডন বৈঠক, যেখানে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের বিষয়ে একমত হওয়ার কথা জানানো হয়। জামায়াত ও এনসিপি মনে করে, অন্য দলগুলোকে পাশ কাটিয়ে এককভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রশাসন বিএনপির প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট হচ্ছে।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, সংস্কার ও বিচারের বিষয় পাশ কাটিয়ে নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের অভিযোগ, যারা সংস্কারে বাধা দিচ্ছে, তারাই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, এটি নির্বাচনে আসন নিয়ে দরকষাকষির জন্য বিএনপির ওপর চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ অবশ্য এসব হুমকিকে ‘মাঠের বক্তৃতা’ বলে মনে করছেন এবং তাদের বিশ্বাস, সব দলই নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত বা এনসিপি নির্বাচন বর্জন করলে তা বিএনপির জন্য বড় চাপ তৈরি করবে এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দলগুলোর এই বিভেদ নির্বাচনকে সংঘাতপূর্ণ করে তুলতে পারে, যা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক সুযোগ করে দেবে। রাজনৈতিক দলগুলোর অনড় অবস্থান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচনার টেবিলে ফেরার আপাত অনাগ্রহে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।