মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

ভবন ভাঙার পর প্রকল্প বাতিল, সাতকানিয়ায় ঝুঁকিতে দেড়শ শিক্ষার্থী

ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি, দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে জরাজীর্ণ ভবনে। বড় দুর্ঘটনার আগে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২১ অগাস্ট ২০২৫ | ১২:০৭ পূর্বাহ্ন


নতুন ভবন পাওয়ার আশায় পুরোনো আধাপাকা ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু তিন বছর পর সেই প্রকল্পই বাতিল হয়ে গেছে। ফলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ১৩৩ বছরের পুরোনো একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী এখন একটি মাত্র জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে।

দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়া, ছাদে ফাটল আর সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ঝরা ৩৬ নম্বর উত্তর এওছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এখনকার চিত্র। শ্রেণিকক্ষ সংকটে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষেই চলছে প্রাক-প্রাথমিকের পাঠদান।

শিক্ষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে শিক্ষার্থীরা আজ দুর্ভোগে পড়েছে। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষ বলছে নিলাম জটিলতায় সময়মতো জায়গা বুঝিয়ে না দেওয়ায় চুক্তি বাতিল হয়েছে।

ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির একমাত্র চার কক্ষের ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ। প্রতিটি দেয়ালে ফাটল ধরেছে এবং ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় ক্লাস চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রায়ই ছাদ থেকে কংক্রিটের টুকরো খসে পড়ে, যা তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে। বিদ্যালয়ে খেলাধুলার পরিবেশও নষ্ট হয়ে গেছে পুরোনো ভবনটি ভাঙার পর।

স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন দাশ বলেন, “যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মেয়াদোত্তীর্ণ ভবনে শিশুরা মৃত্যুমুখে ক্লাস করছে। আরেকটি মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির মতো ঘটনা ঘটার আগেই আমরা এই বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন চাই।”

প্রকল্প বাতিলের নেপথ্যে

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৪ আগস্ট প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়টির তিনতলা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। মেসার্স কেয়া কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায় এবং সে বছরের নভেম্বরে চুক্তি সম্পন্ন হয়।

কিন্তু কাজ শুরুর বদলে ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ সরোয়ার হোসাইন চুক্তিটি বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন।

চিঠিতে কারণ হিসেবে বলা হয়, পুরোনো আধাপাকা ভবনটি নিলামে বিক্রি করতে দেরি হওয়ায় ঠিকাদারকে সময়মতো জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় চুক্তি বাতিলের প্রশাসনিক অনুমোদন চাওয়া হয়।

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মুক্তি রাণী ধরের ভাষ্য ভিন্ন।

তিনি বলেন, “টেন্ডারের পরপরই আমরা পুরোনো ভবনটি নিলামে তুলি এবং ঠিকাদার আবুল কাশেম নিজেই সেটি নিলামে কেনেন। তাকে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হলেও তিনি কাজ শুরু করেননি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, এই কাজ করলে তার লোকসান হবে। তার গাফিলতির কারণেই আজ আমাদের এই সীমাহীন দুর্ভোগ।”

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুল বাশার ওমর ফারুক বলেন, “বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। ঠিকাদারের লোকসান হওয়ার আশঙ্কায় ভবন নির্মাণ না করার তথ্য আমার জানা নেই।”

বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বুধবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে বলেন, “প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল পুরোনো ভবন না ভাঙায় কাজ করা যায়নি। আমরা নতুন করে টেন্ডার করার প্রক্রিয়া শুরু করছি, তবে বিষয়টি সময়সাপেক্ষ।”