
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ৪৮ বোতল ফেনসিডিলসহ তিন ব্যক্তিকে আটক করে স্থানীয়রা সেনাবাহিনীকে সোপর্দ করেছে; আটক ব্যক্তিরা নিজেদের পুলিশের সোর্স বলে দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার চুনতি বাজার থেকে তাদের আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা এক পুলিশ উপ-পরিদর্শকের (এসআই) নির্দেশে ফেনসিডিলগুলো পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে থানা পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- লোহাগাড়ার বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন ও নাজিম উদ্দিন এবং কুমিল্লার তাজরুল ইসলাম।
আটক হওয়ার পর রমিজ উদ্দিন নামে একজন বলেন, তারা তিনজনই পুলিশের সোর্স। লোহাগাড়া থানার এসআই কামাল তাদের জব্দ করা ফেনসিডিলগুলো পার্শ্ববর্তী লামা উপজেলার আজিজ নগরে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। তাদের দাবি, এসআই কামাল একটি প্রাইভেটকারে তাদের পেছনেই ছিলেন এবং তিনি পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধারের পর তা জমা না দিয়ে পাচার করে দেওয়ার অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। বৃহস্পতিবার এক ‘বিশ্বস্ত সূত্রে’ খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা চুনতি বাজার এলাকায় প্রায় আট ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে ফেনসিডিলসহ ওই তিনজনকে আটক করে। পরে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল এসে তাদের হেফাজতে নেয়।
লোহাগাড়া থানার এসআই কামাল বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। প্রাইভেটকারে আমি ছিলাম না। তারা যা বলছে তা মিথ্যা কথা।’
লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল আলম বলেন, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে এবং শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত এসআই কামালের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”