শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

সরকারের ভেতরে-বাইরে টানাপোড়েন, বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১০:২৯ পূর্বাহ্ন


গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

উপদেষ্টাদের কেউ হামলার বিচার চাইছেন, কেউ দায় সরকারের ওপর চাপাচ্ছেন; আবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মতো দলগুলো সরাসরি সেনাবাহিনী ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এই পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।

গত শুক্রবার রাতে নূরের ওপর হামলার পর আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এর তীব্র নিন্দা জানান। অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া হাসপাতালে নুরকে দেখে এসে বলেন, এই হামলার দায়দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিতে হবে। সরকারের অংশ হয়ে উপদেষ্টাদের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যকে সংশ্লিষ্টরা সমন্বয়হীনতার স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

এ ঘটনায় সবচেয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে এনসিপি। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সেনাবাহিনী নূরের ওপর হামলাকে ‘মব ভায়োলেন্স’ আখ্যা দিয়ে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা দেশকে অস্থিতিশীল করতে পারে। তিনি সেনাবাহিনীর বিবৃতি প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। গণঅধিকার পরিষদ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছে এবং বিএনপি নেতারা এর পেছনে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র দেখছেন।

দেশের এই পরিস্থিতিকে ‘বয়ে যাওয়া ঝড়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সোমবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “সংস্কার কমিটির প্রস্তাব যেন এগোতে পারছে না। অন্তর্বর্তী সরকার কি পথ হারিয়েছে? এ ধরনের অনেক প্রশ্ন আমাদের মনের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে। এ মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জুলাই অভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে যে বৈষম্যবিরোধী চেতনা পেয়েছি, সেটা রক্ষা করা।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, অভ্যুত্থানের পর সব পক্ষ দায়িত্বশীল আচরণ না করায় এবং বিভিন্ন গ্রুপ নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করায় সরকারের পক্ষে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎকারের পর নানা গুঞ্জর ছড়িয়ে পড়ে। তবে জানা গেছে, বৈঠকে সেনাপ্রধান চলমান পরিস্থিতিতে তার বাহিনীর ভূমিকা সুনির্দিষ্ট করার কথা বলেন এবং প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।