
বহুল আলোচিত ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।
রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ করে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করে।
একইসঙ্গে মামলাটি নতুন করে তদন্তের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পর্যবেক্ষণও বাতিল করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগ বলেছে, নতুন করে তদন্ত করা হবে কি না, সেটি সরকারের নিজস্ব বিষয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ঘোষিত এ রায়ের ফলে বিচারিক আদালতে দেওয়া দণ্ড থেকে সব আসামি চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি পেলেন।
বেঞ্চের অন্য পাঁচ বিচারপতি হলেন- বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
আদালতে আজ আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
এর আগে গত বছরের ১ ডিসেম্বর চাঞ্চল্যকর এ মামলায় তারেক রহমান ও লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের বেঞ্চ বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে দেওয়া রায়ে বলে, যে অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে বিচারিক আদালত বিচারকাজ পরিচালনা করেছিল, তা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না এবং এ বিচার আইনত টেকে না।
হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধেই আপিল বিভাগে গিয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ।
মামলার প্রেক্ষাপট
২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় দলটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ কয়েকশ নেতাকর্মী আহত হন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
পরে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে গত বছরের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে সব আসামিকে খালাস দেন। সেই রায়ই আজ আপিল বিভাগে বহাল রইল।