রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

মিতু হত্যায় শাহজাহান ও সাইদুল গ্রেফতার

| প্রকাশিতঃ ১ জুলাই ২০১৬ | ২:১৫ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম : পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়ার ইসলামপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শাহজাহান ও সাইফুল ইসলাম ওরফে সাকু। এদের মধ্যে শাহজাহান হচ্ছেন মিতু হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়াদের একজন। আর সাকু হচ্ছেন হত্যায় মোটরসাইকেল সরবরাহকারী ও মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন কামরুল শিকদার ওরফে মুছার ভাই।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য্য সাংবাদিকদের জানান, মিতু হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত দুই আসামির আদালতে দেয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, খুনের সময় অন্যদের সঙ্গে শাহজাহানও সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। সে ঘটনাস্থলের অদূরে অবস্থান করে ব্যাকআপ টিমের সদস্য হিসেবে নিয়োজিত ছিল।

তিনি আরও জানান, মিতু হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি সরবরাহ করে সাকু। পরে তা উদ্ধার করে পুলিশ। সাকুর ভাই মুছা মিতু হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন। শাহজাহান ও সাকুকে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে রাঙ্গুনিয়ার ইসলামপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, গ্রেফতার হওয়া আসামি শাহজাহান ও সাকুকে শুক্রবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, ‘শুক্রবার বিকেলে মহানগর হাকিম নওরিন আক্তার কাঁকনের আদালতে তোলা হয় শাহজাহান ও সাকুকে। এসময় মিতু হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। এ বিষয়ে ঈদের পর শুনানি হবে জানিয়ে আপাতত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। পরে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।’

এর আগে গত ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় নগরীর জিইসি এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। ঘটনার দুইদিন পর বাবুল আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তিকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। এরপর এই মামলার আসামি ওয়াসিম, আনোয়ার, অস্ত্র সরবরাহকারী ভোলা ও তার সহযোগী মনিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী হত্যাকান্ডে অংশ নেওয়া মুছা, মো. কালু (২৮), মো. রাশেদ (২৯) ও নূর নবী (২৮) এখনো পলাতক রয়েছেন। তবে মুছার স্ত্রী পান্না আক্তারের দাবি, গত ২২ জুন নগরীর বন্দর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে মুছাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় সন্দেহভাজন আসামি নবীও তাদের সঙ্গে ছিলেন। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।