শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

গণভোটে ভয় পায় বিএনপি—চট্টগ্রামে জামায়াত নেতার অভিযোগ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১১ নভেম্বর ২০২৫ | ৯:৩৫ অপরাহ্ন


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, “৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য তারুণ্যের শক্তিসহ গোটা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ন্যায়ভিত্তিক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লাকে ‘হ্যাঁ’ বলুন।”

সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর সাফা আর্কেড ক্লাবে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের শহরে অবস্থানরত ‘জনশক্তিদের’ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাসমুক্ত নতুন ধারার বাংলাদেশ গঠনে সৎ, নির্লোভ ও মেধাবী নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় সংসদকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। জামায়াতে ইসলামী সে লক্ষ্যেই এবারের জাতীয় নির্বাচনে গণমানুষের ভালোবাসাসহ ব্যাপক সমর্থন আশা করছে।” তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম-১৪ আসনেও বিজয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়লে বিপুল ভোটে দাঁড়িপাল্লার বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।”

আসন পরিচালক ও জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আইআইইউসি’র ভাইস চ্যান্সেলর ও চন্দনাইশের কৃতি সন্তান প্রাণিবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও অঞ্চল টীম সদস্য জনাব জাফর সাদেক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর পরিবেশবিজ্ঞানী মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী এবং বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও জামায়াতের মনোনীত এমপি প্রার্থী ডা. মো. শাহাদাৎ হোসেন।

চন্দনাইশ উপজেলার সেক্রেটারি আহসান সাদেক পারভেজ ও উত্তর সাতকানিয়া থানার সেক্রেটারি মুহাম্মদ ইলিয়াছের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাকারিয়া, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য শহীদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও জেলা সভাপতি আসিফুল্লাহ মুহাম্মদ আরমান, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা কামাল উদ্দীন, সাবেক কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুদ্দীন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি আবু তালেব চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথি মুহাম্মদ শাহজাহান আরও বলেন, “ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য রাসুলুল্লাহ যেভাবে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন, ঠিক তেমনিভাবে সকল জনশক্তিকে দিনরাত পরিশ্রম করে দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দের শাহাদাতের বিনিময়ে আজ সারা বাংলাদেশে ইসলামের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।”

পাঁচ দফা দাবীর বিষয়ে তিনি বলেন, “গণভোট জনগণের বড় অংশের প্রত্যাশা। গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি বা মর্যাদা দিতে হবে। কিন্তু বড় দল হয়ে গণভোটে ভয় পায়। গণভোটে কেন ভয় পাচ্ছে, তা জনগণ বুঝতে পেরেছে। মুলা ঝুলিয়ে জনগণকে আর কোন প্রতারণা করা যাবে না।”

প্রাণিবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. আলী আজাদী বলেন, “আল্লাহ তাআলা ৫ আগস্ট আমাদের জন্য নিয়ামত দিয়ে পাঠিয়েছেন। আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে, মানুষকে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার কাজে সম্পৃক্ত করালে আমাদের বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।”

বিশেষ অতিথি জাফর সাদেক বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বিদায়ের পর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণ বদ্ধপরিকর। অতীতের কোনো সরকার থেকে শোষণমুক্ত ছিলো না। তাই জনগণ ইসলামী শক্তিকে বিজয় করতে চায়। দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ময়দানে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।”

বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “ডিজিটাল দুনিয়ায় বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে সকল সামাজিক মাধ্যমকে কাজে লাগাতে হবে। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শারীরিক পরিশ্রমে কোন বিরতি দেয়া যাবে না।” তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দীন খুনি হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে টালবাহানা করে গুরুতর অপরাধ করেও কিভাবে ক্ষমতায় বসে থাকে তার আওয়াজ তুলতে হবে। আর অনুপ চেটিয়াকে যেভাবে ভারত ফেরত নিয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে শেখ হাসিনাকেও বাংলাদেশে ফেরত এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

বিশেষ অতিথি জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, “শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। চট্টগ্রাম শহরে নিয়মিত গণসংযোগের মাধ্যমে ডা. শাহাদাৎ হোসেন এর দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেয়া হবে।”

বিশেষ অতিথি ডা. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে আমরা অনেক ছাত্র জনতাকে হারিয়েছি। আগামীতে ফ্যাসিবাদ নির্মূলে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সৎ লোকের শাসন নিশ্চিত করলেই দূর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব।” তিনি বলেন, “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে বিগত ২৮ বছর ধরে চন্দনাইশের মানুষ ও সমাজের ছোট ছোট সেবা করে আসছি। এখন জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে সেবা দেয়ার সুযোগ দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে চন্দনাইশ সাতকানিয়ার সকল মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে নিজেকে উৎসর্গ করছি।”

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক বলেন, “বারবার বিজয়ী লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার সকল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সকল ভোটারদের মন জয় করে চন্দনাইশেও দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করা হবে, ইনশাআল্লাহ।”

শিবিরের জেলা সভাপতি আসিফুল্লাহ আরমান বলেন, “১৯৮৯ সালে দোহাজারীর দুই শহীদের রক্ত দিয়ে যে বীজ বুনেছিলাম, আজ তা ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার সকল জনশক্তি তাদের পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও সমাজের ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে পারলে আমাদের দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা নুরুল হোসাইন বলেন, “হাজারো ব্যস্ততার মাঝে নির্বাচনের জন্য সময় দিয়ে গণজোয়ারকে বিজয়ে পরিণত করতে আপনাদের ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করছি। আশা করি আগামী নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটবে ইনশাআল্লাহ।”