রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

রাউজানে শিক্ষিকার ‘রাজকীয়’ বিদায়, ভালোবাসায় সিক্ত জান্নাতুন নাহার

আমির হামজা | প্রকাশিতঃ ১৬ নভেম্বর ২০২৫ | ৭:৩৪ অপরাহ্ন


শিক্ষককের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক বিরল দৃষ্টান্ত দেখল চট্টগ্রামের রাউজানবাসী। উপজেলার ঊনসত্তর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জান্নাতুন নাহারের অবসরে তাকে ‘রাজকীয়’ বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর আয়োজনে এই সংবর্ধনায় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হন এই শিক্ষিকা।

প্রাক্তন ছাত্ররা তাদের প্রিয় শিক্ষককে ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে করে বরণ করে স্কুলে নিয়ে আসেন। পরে তাকে মঞ্চে উঠিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নিজাম উদ্দীনের সভাপতিত্বে বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রাউজান উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহেদুল ইসলাম, সাবেক শিক্ষার্থী মো. রাসেল ও রাজু। এছাড়াও স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা বক্তব্য রাখেন।

বিদায়ী শিক্ষিকার স্মৃতিচারণ করে স্কুলের শিক্ষকরা বলেন, জান্নাতুন নাহারের শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তিনি অত্যন্ত ভালো একজন শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি কখনো সময়ের অপব্যবহার করতেন না, যথাসময়ে স্কুলে আসতেন এবং যেতেন। তার দক্ষতার সাথে স্কুল পরিচালনার কারণে সহকারি শিক্ষকরাও নিয়মনিষ্ঠ ছিলেন।

তারা বলেন, “তার নিয়মানুবর্তিতা ও সময়ানুবর্তিতা থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। এখান থেকে কোনো শিক্ষক প্রমোশন নিয়ে অন্য কোথাও গেলেও তাকে অনুসরণ করে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।”

জানা যায়, জান্নাতুন নাহার ২০০৮ সালে এই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি স্কুলের শিক্ষার মান, খেলাধুলাসহ সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখেন।

তিনি ২০১০ সালে চট্টগ্রাম জেলায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন। একজন সেরা শিক্ষক হিসেবে ২০১৫ সালে তিনি মালয়েশিয়া সফরের সুযোগ পান।

তার নেতৃত্বে ঊনসত্তর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিভিন্ন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জন করে। এর মধ্যে ২০১২ সালে স্কুল ‘অংক দৌড়’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, জেলা পর্যায়ে ৪ বার ফুটবল টুর্নামেন্টে বিজয় এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ২ বার রানার আপ হওয়ার গৌরব রয়েছে।

এই “মেধাবী ও সৎ” শিক্ষিকার বিদায় বেলায় শুধু স্কুলের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরাই নন, এলাকাবাসীও কান্নায় ভেঙে পড়েন।