রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

এক সপ্তাহে তিন ঘটনা: ফটিকছড়িতে আবার ক্ষেতের ধান পুড়িয়ে ছাই

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২০ নভেম্বর ২০২৫ | ২:১১ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনবার কৃষকের ধান পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বুধবার গভীর রাতে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাগমারার খামার পাড়া এলাকায় বর্গাচাষি মুহাম্মদ সেলিমের ধানের গাদায় আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এর আগে গত এক সপ্তাহে উপজেলার হারুয়ালছড়ি ও দৌলতপুরেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। একের পর এক ধান পোড়ানোর ঘটনায় উপজেলার কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষক মুহাম্মদ সেলিম জানান, তিনি অন্যের কাছ থেকে ২০০ শতক (৫ কানি) জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন। ধান কেটে পাশের একটি জমিতে গাদা (স্তূপ) করে রেখেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে সেই ধান মাড়াই করার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ধানের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

সেলিম বলেন, শত্রুতা করে আমার এত বড় ক্ষতি করা হয়েছে। আমি জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে সংসার চালাই। জমিতে অন্তত ৫০০ আড়ি ধান হতো। মানুষের সঙ্গে বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু ফসলের কী অপরাধ? জড়িতদের কঠিন শাস্তি চাই।

স্থানীয়রা জানান, সেলিম দরিদ্র ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। ৩-৪ দিন আগে তিনি ধান কেটে স্তূপ করে রেখেছিলেন। বুধবার মধ্যরাতে আগুন জ্বলতে দেখে প্রতিবেশীরা সেলিমকে খবর দেন। তিনি গিয়ে দেখেন সব ধান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, মাঠের জমিতে রাখা ধানের গাদায় আগুন দেওয়ার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি ঘটনায় গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।

ঘটনার বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সালেক। তিনি বলেন, খবর পেয়ে মাঠকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেছেন। আমরা ওই কৃষককে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দেব।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, মানুষের সঙ্গে শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু এভাবে জমির ধান পুড়িয়ে দেওয়া একেবারেই অমানবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।